Published : 19 Sep 2026, 11:56 PM
ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে অপ্রতিমের মরদেহ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর বিকালে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এদিকে অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় সাধারণ শোক ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া রোববার সব বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল হাকিম বলেন, অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।
তিনি বলেন, “রোববার সাধারণ শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন যেসব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে সেগুলো পরবর্তীতে নতুন সময়সূচিতে নেওয়ার জন্য নোটিশ জারি করা হবে।”
মরদেহ হস্তান্তর, রোববার জনাজা
শনিবার রাতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলে স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে।
শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মরদেহের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।