Published : 19 Sep 2026, 05:39 PM
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের সন্ধান পেতে একটি সিসিটিভি ভিডিও কাজে দেয় বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান।
তিনি বলেছেন, “অপ্রতিম আর আমরা পাশাপাশি বাসায় থাকি। খুবই প্রাণবন্ত একটা ছেলে। একটা ছোট বাচ্চা ছেলেকে কোনো কিছুর জন্য কেউ মেরে ফেলতে পারে—এটা আমরা চিন্তা করতে পারি না। এটা শকিং।
“সকাল থেকে আমরা এটা খোঁজার চেষ্টা করছি। বিভিন্ন জায়গায় সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।”
শুক্রবার বিকালে সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি উপশহরের গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয়েছিল সে। তারপর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না।
সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে হদিশ না পেয়ে রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস লাগোয়া সালমানপুর এলাকার দক্ষিণ মোড়ে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলছিলেন, “আমরা আসলে একটা ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে বিভিন্ন রাস্তা অতিক্রম করতে দেখেছি। এভাবে খুঁজতে খুঁজতে আমরা এই রাস্তার কাছাকাছি আসি।
“পরে স্থানীয় একজন মানুষ আমাদের জানায়, এখানে একটা বাচ্চার লাশ পড়ে আছে। সাড়ে ১২টার দিকে তখন আমরা দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বীভৎসতা দেখতে পাই। এটা আমরা কখনও মানতে পারছি না।”
বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, অপ্রতিমের কাছে থাকা তার মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি। এ কারণে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শনিবার বিকালে বলেন, তারা একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এ ঘটনায় কিছু ‘ক্লু’ তারা পেয়েছেন।
আরও পড়ুন
অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর ফেইসবুকে যা বলেছিলেন মা
কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় কিছু ক্লু পাওয়া গেছে, একজন হেফাজতে: পুলিশ
আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে যাওয়া স্কুলছাত্রের লাশ মিলল লালমাই পাহাড়ে