Published : 20 Sep 2026, 07:49 PM
সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির মামলায় দুই দিন আগে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে আদালতের দেওয়া জামিন আবার বাতিল হয়েছে।
ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সাদেকীন হাবিব বাপ্পীর আদালত রোববার রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন বাতিলের আদেশ দেন।
গত বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৬ এর বিচারক সাদেকীন হাবিবের আদালত রঞ্জন চন্দ্রকে ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন দিয়েছিলেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ঈসমাইল হোসেন বলেন, “১৮ সেপ্টেম্বর রঞ্জন চন্দ্রের আইনজীবী আদালতকে জানিয়েছিলেন সচিবালয় থেকে চুরির ঘটনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের চুরির বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করেননি। পরে বিষয়টি স্যারের (বিচারকের) নজরে আসে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়। পরে আদালত জামিনের বাতিলের আদেশ দিয়েছে।”
রঞ্জনের আইনজীবী পরিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, “এটা তো চুরির মামলা। মামলার মূল নথি তো বিচারকের সামনেই ছিল। এ মামলায় তিন আসামির মধ্যে দুইজন আগেই জামিন পেয়েছেন। রঞ্জন কারাগারে ছিলেন। তিনি এখনো রঞ্জন কারামুক্ত হতে পারেননি।”
কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে ১ জুন অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনে সংযোগ নেই। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়।
পরে টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টা পর সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। ওই লাল টেলিফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার গত ১ জুন শাহবাগ থানায় জিডি করেন। সেখানে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার তার ছিল। এই তারের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল। ভবনের ছাদে কপার তার দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে। ফলে ওই লাল টেলিফোন নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মামলা তদন্তের সময় সিসিটিভি ভিডিও ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৪ জুন সচিবালয় এলাকা থেকে আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে রেজাকুলসহ দুই জন জামিন পেয়েছেন। তবে রঞ্জন কারাগারেই আছেন।