Published : 05 Jun 2026, 06:10 PM
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্র ও ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে শুক্রবার রিমান্ডে পাঠানো হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।
বৃহস্পতিবার এ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসির এসআই ইনজামুল হক দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বলেন, আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি নিয়ে আদালত দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
এবারের কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার অফিস খোলার পর সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, ওই লাল টেলিফোনে সংযোগ নেই।
বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা এসে কয়েক ঘণ্টা পর সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।
বিটিসিএলের যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই লাল টেলিফোনের মাধ্যমে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি কথা বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে সোমবার শাহবাগ থানায় জিডি করেন।
সেখানে বলা হয়, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন এক নম্বর ভবন পর্যন্ত টেলিযোগাযোগের কপার কেবল ছিল। এই কেবলের মাধ্যমেই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের লাল টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হয়েছিল।
জিডিতে বলা হয়, ভবনের ছাদে কপার কেবল ‘দুর্বৃত্তরা’ কেটে ফেলে। ফলে ওই লাল টেলিফোন নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সচিবালয়ে ওই ভবন থেকে টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে দিয়েছিলেন ওই আউটসোর্সিং কর্মী।
সেদিনই সচিবালয়ের আউটসোর্স সদস্য রঞ্জন চন্দ্রকে সে দিন গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিটিটিসির একটি দল অভিযান চালিয়ে একুশে হল সংলগ্ন ভাঙারি দোকান থেকে রেজাকুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করে। পরে চকবাজার থানার হোসেনী দালান রোড এলাকায় একটি ভাঙারি গুদামে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।
আগের খবর:
প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার