Published : 06 Jun 2026, 08:35 AM
ব্রাদার্স ইউনিয়নের পারিশ্রমিক সমস্যায় ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করবেন তামিম ইকবাল। দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে প্রয়োজনে বাইলজের বাইরে গিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়ে রাখলেন তিনি। তবে ভবিষ্যতে তাকিয়ে ত্রিপক্ষয়ি চুক্তিতে কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান।
বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও পারিশ্রমিক না দেওয়ায় শুক্রবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ বর্জন করেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ক্রিকেটাররা। তারা মাঠে না নামায় প্রতিপক্ষ অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। ওয়াকওভার দেওয়ায় বাইলজ অনুযায়ী প্রিমিয়ার থেকে অবনমন হয়ে গেছে ব্রাদার্সের।
তবে এখনও সমস্যা সমাধানের পথ দেখছেন তামিম। বিসিবি নির্বাচনের ক্যাটেগরি-২ বা ক্লাব ক্যাটেগরীর প্রার্থীদের পরিচিতি অনুষ্ঠানে শুক্রবার রাতে বিসিবি প্রধান বললেন, দুই পক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান বের করবেন তারা।
“এই অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ব্রাদার্স ইউনিয়নের যারা অফিসিয়াল আছেন, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। ঘটনাটা ঘটে যাওয়ার পর ক্রিকেটারদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমি উনাদেরকে বলেছি যে, হয়তো চেষ্টা করব তিন পার্টি কালকে বসে- ক্রিকেট বোর্ড, ক্লাব এবং ক্রিকেটাররা প্লেয়ার্স—বসে যদি একটা সমাধান করা যায়, তাহলে সবচেয়ে ভালো।”
“আপনারা জানেন যে, প্রচণ্ড পরিমাণ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। অনেক কিছু প্রতিদিন ঘটছে। আমি আশা করি যে, কালকে সবাই বসে রুলস-রেগুলেশন্স মেইনটেইন করে কতটুকু কী আমরা করতে পারি…পাশাপাশি, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বোর্ডের ওই সামর্থ্য আছে, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভালোর জন্য, কিছু সিদ্ধান্ত যদি বাইলজের বাইরে গিয়েও নেওয়ার দরকার পড়ে, যদি বোর্ড এটাতে রাজি হয়, আমরা ওটা করার চেষ্টা করব। দিনশেষে, আমরা সবাই চাই ক্রিকেটটা হোক।”
ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব এর মধ্যেই ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রাদার্সের আরও বড় শাস্তি চেয়েছে। পাশাপাশি ব্রাদার্সের কর্মকর্তা আমিন খানকে বিসিবির সব ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছে তারা। তাকে নিয়ে আগেও নানা সময়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
তামিম অবশ্য এই কর্মকর্তাকে নিয়ে এখনই সরাসরি কিছু বলতে রাজি হলেন না। আবারও তিনি বললেন, সবার সঙ্গে কথা বলেই সমাধানের চেষ্টা করবেন।
“সবকিছুর বিষয়ে দেখতে হবে। আমি যে পজিশনে আছি, (সবার সঙ্গে) কথা বলার আগেই কোনো কমেন্ট করা উচিত হবে না। তারাও যোগাযোগ করেছে আমার সঙ্গে। এই প্রোগ্রামটা শেষ হলে, এখানে অ্যাডহক কমিটির কয়েকজন আছেন, উনাদের সঙ্গে আলোচনা করে, তাদেরকে যদি কালকে একটা সময় দেওয়া যায়… দুই পার্টিকে ডেকে বসে জিনিসটা সমাধান করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ওটাই আমরা চেষ্টা করব।”
“কারণ আপনি যদি লিগটা দেখেন, খুব চমৎকারভাবে লিগটা হচ্ছে। যদি আবাহনী কালকে জিতে যায়, তাহলে এমনও হতে পারে যে, যদি পরের ম্যাচটাও জিতে, আবাহনী-মোহামেডান ফাইনালও দেখতে পারি। কাজেই সুন্দর একটা জিনিস হচ্ছে। আশা করি, এই সমস্যাটা সমাধান করে দেব।”
সাময়িক এই সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পারিশ্রমিক সমস্যা সমাধানের একটি ভাবনাও তামিমের আছে। বিসিবি নির্বাচনে জিতে সভাপতি পদে থেকে যেতে পারলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
“আপনাদের যদি মনে থাকে, একটা প্রেস কনফারেন্সে বলেছিলাম, যখনই এই পেমেন্ট নিয়ে ইস্যু আসে, এটা কিন্তু বোর্ডের দায় নয়। এখানে ক্রিকেটাররা চুক্তি করে ক্লাবের সঙ্গে। তবে এই সমস্যাগুলো যেহেতু নিয়মিত হচ্ছে, আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে, ভবিষ্যতে এটাকে ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে (ট্রাইপার্টি কন্ট্রাক্ট) আনা যায় কি না, এটা নিয়ে আমাদের একটু চিন্তা করে দেখতে হবে।”
“কারণ, প্রতি মৌসুমেই কোনো না কোনো দলের এই অভিযোগ আসছে। শুধু আজকে নয়, ১০-১৫-২০ বছর ধরে চলছে। এই জিনিসটাকে আমরা বদলে করে ট্রাইপার্টি কন্ট্রাক্ট করলে…. আপনারা এটাও জানেন যে, বিসিবি ক্লাবগুলোকে একটা খরচ দেয়, ২৫-৩০ লাখ টাকার মতো দেয়। বিসিবিরও একটা কথা বলার জায়গা থাকা উচিত, যদি এরকম ধরনের কোনো ইস্যু আসে। আমি বলছি না যে নিশ্চিত হবেই, সবার সঙ্গে কথা বলে, সামনে যে নির্বাচিত বোর্ড আসবে, আশা করি তারাও এই জিনিসটা দেখবেন যে, প্রিমিয়ার লিগে ট্রাইপার্টি কন্ট্রাক্ট করা যায় না কি। তাহলে হয়তো এই সমস্যাগুলো অনেকটা কমে আসবে।”