Published : 05 Jun 2026, 04:41 PM
‘পদোন্নতি না পেয়ে’ চাকরি ছাড়ার আবেদন করেছেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান (ডিআইজি) আলি আকবর খান।
এক দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পদোন্নতির তালিকায় তালিকায় নিজের নাম না দেখে আকবর খান ক্ষুব্ধ হন। এর পরই তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর চাকরি ছাড়ার আবেদন করেন।”
সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার পাঁচজন ডিআইজিকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা হলেন—সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মুশফেকুর রহমান, এনএসআইয়ের পরিচালক মোশাররফ হোছাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মনিরুজ্জামান, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
সিআইডির ডিআইজি (অর্গানাইজ ক্রাইম) আলি আকবর খান গত ১ জুন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পান।
চাকরি ছাড়ার আবেদনে তিনি লিখেছেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশের ‘সর্বপ্রথম সদস্য’ হিসেবে আকবর খানকে ২০০৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ওএসডি করে এবং ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল চাকরিচ্যুত করে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল করা হয়।
“অদ্য ০৪.০৬.২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে যারা পদোন্নতি পেয়েছেন সে তালিকায় আমার নাম না থাকায় আমি নিশ্চিত যে আমার জানা-অজানা কোন অযোগ্যতার কারণে আমি সর্বশেষ বৈষম্যের শিকার হলাম। এমতাবস্থায়, নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে আমি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা মতে আগামী ০২.০৭.২০২৬ খ্রি. তারিখ চাকরি হতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণে ইচ্ছুক।”
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর আবেদনপত্রটি গ্রহণ করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর আবেদনটি গ্রহণ করলে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য সেটি মন্ত্রণালয় পাঠানো হতে পারে।
যোগাযোগ করা হলে আলি আকবর খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টা আমার ব্যক্তিগত। আর যেহেতু আমি এখনো সার্ভিসে আছি; আমি এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”
২০০৬ সালে চট্টগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের সময় সাংবাদিক পিটিয়ে আলোচনায় আসেন তৎকালীন সিএমপির উপ-কমিশনার আলি আকবর খান। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাকে কাজের বাইরে রাখা হয়। ৫ অগাস্টের পটপরিবর্তনের পর তিনি চাকরি ফিরে পান।