২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

এই প্রথম কক্ষপথে যাচ্ছে স্টারলিংক ‘ভি৩’ রকেট

এবারের পরীক্ষামূলক অভিযানের সময় স্টারশিপ পৃথিবী থেকে ১৭১ মাইল ওপর দিয়ে উড়ে যাবে ও ১০ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীকে ছয়বার প্রদক্ষিণ করবে।

এই প্রথম কক্ষপথে যাচ্ছে স্টারলিংক ‘ভি৩’ রকেট

স্টারশিপের আগের সব ফ্লাইট টেস্ট বা পরীক্ষামূলক ফ্লাইট সাবঅরবিটাল বা উপ-কক্ষপথেই সীমাবদ্ধ ছিল। ছবি: স্পেসএক্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 20 Sep 2026, 07:53 PM

Updated : 20 Sep 2026, 07:53 PM

মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে স্পেসএক্স। প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পাড়ি জমাবে কোম্পানিটির স্টারশিপ ভি৩ রকেট, যা একইসঙ্গে উচ্চ সক্ষমতার স্টারলিংক স্যাটেলাইট কক্ষপথে বসাবে।

২৮ সেপ্টেম্বর রকেটটি পৃথিবীর কক্ষপথে প্রবেশ করবে এবং স্পেসএক্সের ইন্টারনেট স্যাটেলাইট কনস্টেলেশনে স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইটগুলোকে যোগ করবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

স্পেসএক্স বলেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর রকেটটির ১৪তম উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে। ওই দিন পূর্বঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ৭৫ মিনিটের একটি উইন্ডো খোলা থাকবে।

এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।

পাশাপাশি কোম্পানিটি বলেছিল, উৎক্ষেপণটি এখনও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্টারশিপের আগের সব ফ্লাইট টেস্ট বা পরীক্ষামূলক ফ্লাইট সাবঅরবিটাল বা উপ-কক্ষপথেই সীমাবদ্ধ ছিল।

স্পেসএক্স বলেছে, “জনগণের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ অভিজ্ঞতা পাওয়ার জন্যই এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল।”

কোম্পানিটির ভাষ্য, আসন্ন ধাপটি ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলোর জন্য মহাকাশযানটিকে প্রস্তুত করা ও এর পুনঃব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপ।

এবারের পরীক্ষামূলক অভিযানের সময় স্টারশিপ পৃথিবী থেকে ১৭১ মাইল ওপরে যাবে ও ১০ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীকে ছয়বার প্রদক্ষিণ করবে।

স্পেসএক্সের আসন্ন স্টারশিপ উৎক্ষেপণে কেবল কক্ষপথ প্রদক্ষিণই নয়, বরং বাণিজ্যিক সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে।

এবারের ফ্লাইটে রকেটের আপার স্টেজ বা ওপরের অংশটি স্পেসএক্সের কনস্টেলেশনে ২৬টি ‘স্টারলিংক ভি৩’ স্যাটলাইট যোগ করবে।

এর আগের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে স্টারশিপ প্রথমবারের মতো নতুন প্রজন্মের এসব স্যাটেলাইট বহন করেছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই কাজের সক্ষমতা যাচাই করা।

ওই সময় স্যাটেলাইটগুলো কেবল তাদের সোলার অ্যারে ও অ্যান্টেনা প্রসারিত করে স্টারলিংক কনস্টেলেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এবং পরবর্তীতে বায়ুমণ্ডলে পুড়ে ছাই হয়ে যেত।

তবে এবারের ফ্লাইটে যেসব স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো হবে সেগুলো সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দেবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে ‘স্টারলিংক ভি৩’ স্যাটেলাইটগুলো বিস্ময়কর সক্ষমতা নিয়ে আসছে। নতুন প্রজন্মের এসব স্যাটেলাইট ১ টেরাবিটস প্রতি সেকেন্ড ডাউনলিংক সমর্থন করতে পারে, যা ‘ভি২’ সংস্করণের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।

এ ছাড়া, এর আপলিংক সক্ষমতা ১৬০ জিবিপিএস, যা ‘ভি২’-এর তুলনায় ২২ গুণ শক্তিশালী।