Published : 20 Sep 2026, 07:46 PM
ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান অমর প্রীত সিং ও জাপানের বিমানবাহিনীর (জেএএসডিএফ) প্রধান তাকেহিরো মরিতা রোববার যোধপুর বিমানঘাঁটি থেকে তেজস যুদ্ধবিমানে উড্ডয়ন করেন।
ভারত ও জাপানের মধ্যে চলমান যৌথ বিমান মহড়ার অংশ হিসেবে তারা এ উড্ডয়ন করেন।
দুই দেশের বিমানবাহিনীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মহড়া আয়োজন করা হয়।
মহড়ার অংশ হিসেবে উড্ডয়নের আগে দুই বিমানবাহিনী প্রধান ভারতের তৈরি দুটি তেজস যুদ্ধবিমানের দিকে এগিয়ে যান। দুই প্রধানের এই উড্ডয়ন চলমান মহড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
মরিতার মুখে তেজসের প্রশংসা
তেজস যুদ্ধবিমানে চড়ার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মরিতা। বিমানটিকে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতীক হিসেবেও অভিহিত করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে থাকতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। আপনাদের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তেজসে ওড়ার এই মূল্যবান সুযোগের জন্যও আমি কৃতজ্ঞ।
“যুদ্ধবিমান হিসেবে তেজস ভারতের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের প্রতীক এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের প্রতিফলন।”
জাপানের বিমানবাহিনীর প্রধান আরও বলেন, “ওড়ার সময় আমি সেই সব সামরিক সদস্য ও শিল্প খাতের ব্যক্তিদের কথা ভাবছিলাম, যারা বিমানটিতে তৈরির ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।
“এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি ভারতীয় বিমানবাহিনীতে প্রশিক্ষণের চমৎকার পরিবেশ সম্পর্কে জানতে পেরেছি। জাপানের বিমানবাহিনীর জন্য এই মহড়ার গুরুত্ব কতটা, সে ধারণাও আমি পেয়েছি।”
মরিতা বলেন, “আমি এই অভিজ্ঞতাকে কেবল অমূল্য হিসেবেই মনে রাখব না, আমাদের দুই বিমানবাহিনীর মধ্যে গড়ে ওঠা আস্থা, আত্মবিশ্বাস ও অংশীদারত্বের শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেও মনে রাখব।”
ভারত-জাপান বিমানবাহিনীর সম্পর্কের ভিত্তি ‘কিজুনা’
ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান অমর প্রীত বলেন, এই মহড়া দুই বিমানবাহিনীর মধ্যকার অবিচল আস্থা এবং ভারত ও জাপানের অভিন্ন ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
তিনি বলেন, “ভারত ও জাপান একটি মুক্ত, উন্মুক্ত ও নিয়মতান্ত্রিক ইন্দো-প্যাসিফিকের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে। আমাদের দুই দেশের বিমানবাহিনীর মধ্যকার শক্তিশালী সহযোগিতা সেই অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখে।”
“আমাদের দুই দেশের বিমানবাহিনীর সম্পর্ক অত্যন্ত জটিল পরিবেশের মধ্যেও কীভাবে এগিয়েছে, সে বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে শুনেছি।”
অমর প্রীত বলেন, “এই মহড়া দুই বিমানবাহিনীর মধ্যকার পারষ্পরিক আস্থা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা যখন একসঙ্গে মহড়ায় অংশগ্রহণ করি, তখন একে অপরের কাছ থেকে শিখি এবং একসঙ্গে উড়ি। ফলে উভয় পক্ষই একসঙ্গে আরও সক্ষমতা অর্জন করে।”
জাপানি শব্দ ‘কিজুনার’ প্রসঙ্গ তুলে ভারতের বিমানবাহিনীর প্রধান বলেন, “আমি নিশ্চিত, এই মহড়া উভয় পক্ষের সক্ষমতা বাড়াবে। এই সমন্বয়কে আমি ‘কিজুনা’ হিসেবে বর্ণনা করতে পারি।
“আমাকে বলা হয়েছে, ‘কিজুনা’ হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন বা সম্পর্ক, যা অভিন্ন অভিজ্ঞতা, পারস্পরিক সম্মান ও যৌথ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়।”
মহড়ায় অংশ নিচ্ছে ভারত ও জাপানের যুদ্ধবিমান
‘বীর গার্ডিয়ান-২০২৬’ নামের এ মহড়ায় ভারতের বিমানবাহিনী অংশগ্রহণ করছে তাদের সম্মুখসারির কয়েকটি যুদ্ধবিমান নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের নিজেদের তৈরি ‘তেজস’, ‘সুখোই-৩০’ ও ‘রাফাল’ যুদ্ধবিমান রয়েছে।
অন্যদিকে জাপানের বিমানবাহিনী মহড়ায় অংশগ্রহণ করছে ‘এফ-টুএ’ যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে।
এই প্রথম ভারতের আকাশসীমায় এই যুদ্ধবিমান উড়াল জাপান। গত ৮ সেপ্টেম্বর ‘এফ-টুএ’ ভারতে পৌঁছালে দেশটির বিমানবাহিনী স্বাগত জানায়।
রাজস্থানের যোধপুর বিমানঘাঁটিতে ১৪ দিনের এ মহড়া চলছে; শেষ হবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
রাজনাথের ভাষায়, এই মহড়া একটি ‘মাইলফলক’
‘এফ-টুএ’ যুদ্ধবিমান নিয়ে মহড়ায় অংশগ্রহণ করাকে ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
১০ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, জাপানের যুদ্ধবিমানের প্রথম ভারত সফরে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতার প্রতি দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে।
গত মাসে নয়া দিল্লিতে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে নিজের ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ আলোচনা হওয়ার কথাও তুলে ধরেন রাজনাথ।