Published : 20 Sep 2026, 08:18 PM
পুরনো অভিশাপের কালো মেঘ যেন আবারও ঘনাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবারে। ছোট ছেলে হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মর্কেলকে নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম যে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছে তাতেই এমন আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
বিবিসি-কে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে খোলাখুলিভাবেই নিজের এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়নার ভাই আর্ল স্পেনসার।
তিনি বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচার হ্যারি ও মেগানের জীবনে ‘ক্যান্সারের মতো প্রভাব’ ফেলছে। তাদের পরিণতিও না ডায়নার মতো হয়।
স্পেনসারের মতে, “ডায়ানার উদাহরণ থেকে মানুষের শিক্ষা নেওয়া উচিত।”
প্রিন্স হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ছয় বছর পর সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন। তারা গণমাধ্যমকে নিয়ে বার বার সমালোচনা করে আসছেন।
আলথর্প এস্টেটে বিবিসি সাংবাদিক লরা কুয়েনসবার্গের সঙ্গে কথা বলার সময়, আর্ল স্পেন্সারকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বিশ্বাস করেন কি না যে ডায়ানা (বেঁচে থাকলে) হ্যারি ও মেগান যে তীব্র নজরদারির মুখোমুখি হচ্ছেন, তার সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেতেন।
জবাবে স্পেনসার বলেন, “আপনি যদি ডায়ানা বা হ্যারি ও মেগান সম্পর্কে কোনও ট্যাবলয়েড পত্রিকায় প্রকাশিত কোনও আর্টিকেল বা প্রতিবেদন দেখেন, সেগুলো যে সত্যিই খুব বেশি অপ্রীতিকর বা বাজে হতে পারে, সেটি তো জানেনই।”
তবে হ্যারি ও মেগানের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে আসেননি উল্লেখ করে স্পেনসার বলেন, “কিন্তু যে কারো জন্য গণমাধ্যমের প্রচারের মাধ্যমে প্রতিদিন ধ্বংস হওয়াটা তার জীবনে ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে।"
ডায়ানার ওপর গণমাধ্যমের চাপের কথা স্মরণ করে স্পেনসার বলেন, তিনি নিজের বোনের ‘হতাশার অশ্রু’ দেখেছেন। সমালোচনার প্রতি ডায়ানা ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গণমাধ্যমে সমালোচনা তাকে ‘খুব নিচে নামিয়ে দিয়েছিল’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই ধরনের পরিস্থিতির প্রতিফলন এখন হ্যারি ও মেগানের ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়াকে স্পেনসার দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
১৯৯৭ সালের ৩১ অগাস্ট প্যারিসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিন্সেস ডায়ানা সংবাদমাধ্যমের প্রচণ্ড আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন।
প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে ডায়ানার দাম্পত্য সম্পর্কে দূরত্ব, দোদি আল ফায়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, স্বাধীন জীবন উপভোগ করা – এসব নিয়ে সেসময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে ডায়ানাকে সেসব সহ্য করতে হয়েছিল।
শুধু তাই নয়, প্রেমিকের সঙ্গে ডায়না কখন কোথায় যাচ্ছেন, তা জানতে একমুহূর্তের জন্যও পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা পিছু ছাড়েনি। তাদের নজর এড়াতে গিয়েই প্যারিসের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনা হয়, এমন তত্ত্ব জোরালো হয়েছিল সেসময়।
ডায়ানার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় দেওয়া শোকবাণীতে আর্ল স্পেন্সার গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার বোনকে হেয় প্রতিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে সংবাদপত্রগুলো ডায়ানার ‘প্রকৃত ভালো স্বভাবের’ কারণে নিজেদের অবস্থান নিয়ে হুমকি বোধ করছিল।
হ্যারি ও মেগানও দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম নিয়ে সমালোচনা করে আসছেন। ২০২১ সালে অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে হ্যারি ট্যাবলয়েড সংবাদমাধ্যমকে ‘বিষাক্ত পরিবেশ’ তৈরি করার জন্য দায়ী করেন।
২০২২ সালের নেটফ্লিক্স সিরিজে মেগানও অভিযোগ করেছিলেন, তিনি যত ভালো করারই চেষ্টা করুন না কেন, সংবাদমাধ্যম তাকে ধ্বংস করার পথ খুঁজে নেয়।
রাজপরিবার ছেড়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সংকল্প নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া ডায়নার ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারি এবছর সেপ্টেম্বরে ফিরেছেন যুক্তরাজ্যে। সঙ্গী স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে।
সন্তানদেরকে দেশের স্কুলেও ভর্তি করিয়েছেন। অর্থাৎ, এবার নিজের পরিবারের সঙ্গেই থাকতে চান তারা। এই মুহূর্তে রাজা চার্লস ক্যানসারে আক্রান্ত। অসুস্থ বাবার কাছে থাকার ইচ্ছা হ্যারির। তাই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে এসেছেন।
যদিও এখন আর আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য নন তিনি। পারিবারিক সম্পত্তিতে তার অধিকার নেই। নিজের থাকা-খাওয়া-সুরক্ষার ব্যবস্থা তাকে নিজেকেই করে নিতে হচ্ছে ।
তারপরও গণমাধ্যমে কাটাছেঁড়া চলছেই হ্যারি ও মেগানকে নিয়ে। তাদের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকিঝুঁকি, লাগাতার ট্রোল করা হচ্ছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে। ভাগ্নেকে নিয়ে তাই উদ্বিগ্ন স্পেনসার।