Published : 20 Sep 2026, 09:15 PM
চলতি বছরে দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা করছে বেসরকারি খাত-সমর্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ চারা বিতরণ কর্মসূচি বা উদ্যোগ ‘বনায়ন’।
শনিবার বনায়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বৃক্ষ ও ভূমির অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের সহনশীলতা ও জলবায়ু মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
১৯৮০ সালে যাত্রা শুরু করা বনায়ন গত সাড়ে চার দশকে সারা দেশে ১৩ কোটিরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। এ দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগের কথা জানাল বনায়ন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব যেমন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও তাপপ্রবাহসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের গুরুত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বর্তমানে সারা দেশে ১৯টি নার্সারির মাধ্যমে বনায়নের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব নার্সারিতে স্থানীয় পরিবেশ ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির চারা উৎপাদন করা হয়। বনায়নের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল- এর ৭০:৩০ প্রজাতি বিন্যাস কৌশল, যেখানে দ্রুতবর্ধনশীল বনজ প্রজাতির পাশাপাশি দেশীয় ও ঔষধি গাছকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গত ৪৬ বছরে বনায়ন সারা দেশের কৃষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার কথা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একই সঙ্গে ১১৯টি ঔষধি উদ্ভিদবাগান প্রতিষ্ঠা করেছে কর্মসূচিটি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী ঔষধি উদ্ভিদের সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিচিতি বাড়ানোর সহায়তা করা হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বনায়ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছে। এর মধ্যে পাঁচবার বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার অর্জন অন্যতম উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি।
বনায়নের মুখপাত্র আহমেদ রায়হান আহসানউল্লাহ বলেন, “বনায়নের ৪৬ বছরের পথচলা যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, তেমনি এটি আমাদের জন্য একটি চলমান দায়িত্বও।
“জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই তীব্র হওয়ায় বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব এখন সবচেয়ে বেশি।”
চলতি বছর দেশব্যাপী ৫০ লাখ চারা বিতরণের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা জনগোষ্ঠী ও সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করে পরিবেশ পুনরুদ্ধারে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।”