আগামী সপ্তাহে ইরান নিয়ে উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প
বৈঠকের পরিধি বাড়িয়ে অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগামী মঙ্গলবার জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে এ বৈঠক হতে পারে, বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি জানেন এমন তিনটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে তথ্যটি জানিয়েছে।
বুধবার ট্রাম্প বলেছেন, “আশা করি, আমরা যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে রয়েছি।”
ট্রাম্প আবার দাবি করেছেন যে ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে আর যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের কাছ থেকে এ প্রস্তাব পেয়েছে।
কেন বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় কী ধরনের ভূরাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হবে, তার একটি খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করছেন। এর উদ্দেশ্য যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি কীভাবে সামলানো হবে আর যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ কীভাবে সংরক্ষিত থাকবে তার একটি রূপরেখা তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা।
জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতা বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এই পরিকল্পনার বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করবেন ট্রাম্প।
প্রেক্ষাপট
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত যে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে যুদ্ধ চলাকালে সেগুলো ইরানের বড় ধরনের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি তেল, গ্যাস রপ্তানি বিঘ্নিত হওয়ায় দেশগুলো উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নেতানিয়াহু
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে চাইছেন। কিন্তু এখনও কোনো বৈঠকের সূচী চূড়ান্ত হয়নি বলে ইসরায়েলি সূত্রগুলো অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে।
তবে এসব বিষয়ে হোয়াইট হাউজ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গত বছরের গাজা শান্তি পরিকল্পনা
গত বছর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে ট্রাম্প আটটি আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব নেতাদের সামনে তার গাজা শান্তি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
এই বৈঠকের এক সপ্তাহ পর তিনি গণমাধ্যমের সামনে গাজা শান্তি পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ অবসানের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এরপর কী
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার উপসাগরীয় ওই দেশগুলোকে প্রাথমিক আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়েছে।
তথ্যদাতাদের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, বৈঠকটির পরিধি বাড়িয়ে এতে অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশগুলোর নেতাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
