Published : 01 Mar 2026, 06:03 PM
সেহরির সময় অনেকেই ভরপেট পানি পান করে মনে করেন সারাদিন আর পিপাসা লাগবে না। তবে এই অভ্যাস শরীরের জন্য মোটেই ভালো নয়।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “সেহরিতে একবারে অতিরিক্ত পানি খেলে পেটে অস্বস্তি, হজমের সমস্যা এবং পরবর্তী সময়ে তৃষ্ণা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
সঠিক পরিমাণে ও সঠিক সময়ে তরল গ্রহণ করলে রোজার দিন স্বস্তিদায়ক কাটে এবং পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
সেহরিতে তিন গ্লাস তরল পান যেতে পারে, তবে একবারে নয়। খাবার খাওয়ার আগে, খাওয়ার ফাঁকে এবং খাওয়ার পর ধাপে ধাপে পানি বা তরল গ্রহণ করা উপকারী।
এই তরল হতে পারে বিশুদ্ধ পানি, ফলের রস, ডাবের পানি বা আমলকী-পুদিনাপাতা ভিজিয়ে রাখা পানি।
একবারে অনেক পানি পান করলে পাকস্থলীতে চাপ পড়ে, হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পেট ফাঁপা বা অম্বলের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খাবারের সঙ্গে পানি পান করা থেকেও বিরত থাকুন। খাবারের ফাঁকে ফাঁকে পানি পান, পেটে অস্বস্তি এবং হজমে ব্যাঘাত তৈরি করতে পারে।
খাবার খাওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে পানি পান করা উচিত। এতে শরীর আগে থেকেই আর্দ্র হয়।
“খাওয়া শেষ করার পরও অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি পান করতে হয়। এই বিরতি হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং পেটে চাপ কমায়। খাবারের পর ফজরের নামাজ আদায় করে খানিকক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলেও উপকার মিলবে। হালকা হাঁটাহাঁটি হজমে সহায়তা করে এবং শরীরকে সতেজ রাখে”- পরামর্শ দেন ডা. নয়ন।
সেহরিতে শুকনা খাবারের পরিবর্তে নরম ও তরলজাতীয় খাবার বেছে নিতে হবে। সেদ্ধ চালের ভাত, জাউ ভাত, ওটস, সুজি বা দুধ-চিড়া এমন খাবার যা শরীরে পানি ধরে রাখে।
ভাজা-ভুনা বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
মাছ-মাংসের ঝোল তরকারি বা স্যুপ উপকারী। পানিধর্মী সবজি— লাউ, পেঁপে, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, উচ্ছে— সেদ্ধ বা হালকা ঝোলে রান্না করে খেতে পারেন।
দুধ, টক দই বা দুধ দিয়ে তৈরি খাবার রাখুন। রাতে রসালো ফল— কলা, আপেল, তরমুজ, বাঙ্গিও খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার শরীরে প্রাকৃতিক পানির জোগান দেয়।
চা-কফি সেহরিতে একেবারে বর্জন করা উচিত। এগুলো পানিশূন্যতা বাড়ায় এবং পিপাসা আরও তীব্র করে।
লবণজাতীয় খাবারও কম খেতে হবে। কারণ অতিরিক্ত লবণ শরীর থেকে পানি টেনে বের করে দেয়।
দিনে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে। প্রয়োজনে ইফতারের পর ব্যায়াম করা যেতে পারে। কারণ তখন পানি পানের সুযোগ থাকে।
ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে পানি পান করতে হয়। আমলকী বা পুদিনাপাতা ভিজিয়ে রাখা পানি পান করলে পানিশূন্যতা কমে এবং শরীর সতেজ থাকে।
ডা. নয়ন বলেন, “সেহরিতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও তরল গ্রহণের নিয়ম মেনে চললে সারাদিন পিপাসা কম লাগে, মুখ শুকিয়ে যায় না এবং রোজা স্বস্তিদায়ক কাটে।”
খাবারের আগে-পরে পর্যাপ্ত বিরতি রেখে ধাপে ধাপে পানি পান করা উপকারী। এতে রমজানের প্রতিটি দিন সুস্থ ও আনন্দময় হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন
সেহেরির পর চা পান করা যে কারণে ঠিক না