Published : 28 Feb 2026, 05:57 PM
রমজানে সেহেরি শুধু দিনের শুরু নয়, বরং দীর্ঘ সময় রোজা রাখার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করার কার্যকর পন্থা।
অনেকেই অভ্যাসবশত সেহেরির পর এক কাপ গরম চা পান করেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের জন্য সব সময় উপকারী নয়।
বরং এটি দিনের বেলায় ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং হজমের সমস্যার কারণ হতে পারে।
সেহেরির খাবার ও শরীরের প্রস্তুতি
সেহেরির খাবারের মূল উদ্দেশ্য হল শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি, পানি এবং পুষ্টি সরবরাহ করা, যাতে দীর্ঘ সময় না খেয়েও শরীর স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে।
এ সময় এমন খাবার খাওয়া উচিত যা ধীরে ধীরে শক্তি দেয় এবং শরীরকে আর্দ্র রাখে। তবে চা, বিশেষ করে ক্যাফিনযুক্ত চা— এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টি কর্মকর্তা আখতারুন নাহার আলোর মতে, “সেহেরির পর চা গ্রহণ করলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে, যা রোজার সময় তৃষ্ণা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।”
চায়ে থাকা ক্যাফিন ও তার প্রভাব
“চায়ে থাকা ক্যাফিন একটি ‘ডাইইউরেটিক’ বা মূত্রবর্ধক উপাদান, অর্থাৎ এটি শরীর থেকে পানি বের করে দিতে প্রভাব রাখে। সেহেরির পর চা পান করলে শরীর দ্রুত পানি হারাতে শুরু করে, যার ফলে রোজার সময় পানিশূন্যতা অনুভূত হতে পারে”- বলেন হেলথ কেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আফিফ বাসার।
তিনি আরও বলেন, “ক্যাফিন হৃদস্পন্দন কিছুটা বাড়াতে পারে এবং অনেকের ক্ষেত্রে অস্থিরতা বা হালকা মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে, যা খালি পেটে আরও বেশি প্রভাব ফেলে।”
হজম সমস্যার ঝুঁকি
সেহেরির পর চা পান, হজমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যদি ভারী বা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া হয়, তবে চা সেই খাবারের পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
এই পুষ্টিবিদদের মতে, চায়ে থাকা ‘ট্যানিন’ লৌহ অর্থাৎ আয়রনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শোষণ কমিয়ে দেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
অ্যাসিডিটি ও অস্বস্তি
খালি বা আধা ভরা পেটে চা পানে, অনেকের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে। সেহেরির পর যখন পেট কিছুটা সংবেদনশীল থাকে, তখন চা সেই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
ফলে দিনভর বুকজ্বালা, অস্বস্তি বা ঢেকুরের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা রোজার সময়কে অস্বস্তিকরও করে তোলে।
ঘুম ও ক্লান্তির ওপর প্রভাব
সেহেরির পর অনেকেই আবার ঘুমাতে যান। তবে চা পান করলে ক্যাফিনের কারণে ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। গভীর ঘুম না হলে দিনের বেলায় ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
মানে হল, চা সাময়িকভাবে সতেজতা দিলেও পরে তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ
আখতারুন নাহার আলোর মতে, “সেহেরির পর চা না পান করে বিকল্প কিছু পানীয় গ্রহণ করা ভালো। যেমন- স্বাভাবিক পানি, ডাবের পানি, লেবু পানি বা হালকা দুধ। এগুলো শরীরকে হাইড্রেইটেড রাখে এবং দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।”
যদি কারও চা পানের অভ্যাস থাকেই, তাহলে সেহেরির অন্তত দুতিন ঘণ্টা আগে চা পান করা যেতে পারে। এতে চায়ের ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমে।
তাহলে কি চা একেবারেই বাদ?
চা সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। ইফতারের পর বা সন্ধ্যার দিকে চা পান করা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তখন শরীর পানিশূন্য থাকে না এবং হজম প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে।
আরও পড়ুন
দেহের আকার গড়ে জীবনযাপনের ধরনে