Published : 01 Jul 2026, 11:59 AM
আর্লিং হলান্ডের বয়স কেবল ২৫। সব ঠিক থাকলে এখনও নরওয়েকে অনেক কিছু দেওয়ার বাকি এই তারকা স্ট্রাইকারের। তবে এখনই তাকে দেশটির ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় মনে করছেন কোচ স্তল সুলবাকেন।
আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দেশটির প্রথম জয়ে অবদান রেখেছেন হলান্ড। জয় সূচক গোলটি করেছেন তিনি।
কোয়ার্টার-ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে সুলবাকেনের দল মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে কখনও হারেনি নরওয়ে! দুই দলের ম্যাচ দিচ্ছে রোমাঞ্চকর এক লড়াইয়ের হাতছানি।
দেশের হয়ে ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোল করেছেন হলান্ড। আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতি ৭২ মিনিটে একবার পেয়েছেন জালের দেখা! প্রথম ৫৫ গোল বড় কোনো টুর্নামেন্টে আসেনি। নরওয়ে যে ইউরো বা বিশ্বকাপে দীর্ঘ দিন ধরে চূড়ান্ত পর্বে খেলতেই পারেনি।
এবারের বিশ্বকাপে আলো ছড়াচ্ছেন হলান্ড। তিন ম্যাচে করেছেন পাঁচ গোল। এর প্রতিটিই প্রথম স্পর্শে। তার চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির বিশ্লেষক ওয়েইন রুনি মনে করেন, হলান্ডের জন্য নরওয়ের উপর চোখ রাখতে হবে।
“নরওয়ে খুব ভালো দল, সেটা শুধু মাত্র তার (হলান্ডের) জন্য। নিজের গোলগুলো দিয়ে সে প্রমাণ করেছে যে সে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য। সে স্রেফ বিধ্বংসী। ম্যাচে সে খুব একটা সক্রিয় ছিল না কিন্তু সে-ই জয়সূচক গোল করল।”
প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে নরওয়ের হয়ে টানা ১৩ ম্যাচে জালের দেখা পেলেন হলান্ড। এই সময়ে তিনি করলেন ২৫ গোল!
এর মধ্যে মালদোভা, ইসরায়েল, এস্তোনিয়ার মতো দলের বিপক্ষে গোল আছে। তবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচে জোড়া গোলও আছে তার। ওই জয়েই ২০০০ সালের ইউরোর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবার জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
এরপর ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ অভিষেক রাঙান হলান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে পরের ম্যাচেও করেন জোড়া গোল। টানা দুই জয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় নরওয়ে।
কিলিয়ান এমবাপের বিপক্ষে হলান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই দেখা যায়নি কোচের সিদ্ধান্তে। ফ্রান্সের বিপক্ষে তারকা স্ট্রাইকারকে খেলাননি সুলবাকেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ফিরে তীব্র স্নায়ু চাপের শেষ সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন হলান্ড।
ডালাসে স্রেফ ১০টি পাস দেন তিনি, এর আটটি ছিল সফল। ম্যাচে কেবল ২৭বার বল স্পর্শ করেন তিনি, এর প্রায় অর্ধেক নিজেদের অর্ধে।
হলান্ডের গোলগুলো হয়তো দর্শনীয় হয় না কিন্তু এগুলো সহজাত প্রবৃত্তি, মুভমেন্ট ও নিখুঁত টাইমিংয়ের মাধ্যমে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত। দেশের হয়ে পেনাল্টি থেকে তার গোল কেবল ছয়টি। তার গোলগুলো আসে একদম ঠিক সময়ে, যেমনটা হয়েছে আইভরি কোস্ট ম্যাচে।
হলান্ডের জন্য কোনো প্রশংসাই যেন যথেষ্ট মনে হচ্ছে না কোচ সুলবাকেনের।
“বিশ্বকাপ বাছাই পেরিয়ে মূল পর্বে আমাদের জায়গা করে নেওয়ার মূল কারণের একটি সে। আজ আমাদের জয়ের কারণও সে। যে কারো চেয়ে অনেক এগিয়ে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হলান্ড। সে নরওয়ের ইতিহাসের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় এবং সম্ভবত ভবিষ্যতেও তাই থাকবে।”
“নরওয়ের মতো ছোট দেশের হয়ে তিন ম্যাচে পাঁচ গোল- এমন একজনকে আমি কারও সঙ্গেই বদল করব না।”
বতর্মান সময়ের কেউ দেশের হয়ে গোলের হারে হলান্ডের ধারে কাছে নেই। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, নরওয়ের হয়ে কত গোল করতে পারেন হলান্ড? একটা হিসাব করেছে বিসিবি।
উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথাই ধরা যাক। পর্তুগিজ মহাতারকা ২৩১ ম্যাচে করেছেন ১৪৫ গোল। প্রতি ১.৫৯ ম্যাচে তিনি করেছেন একটি গোল। আর সেখানে হলান্ড ০.৮৮৮ ম্যাচে করছেন একটি গোল।
এর অর্থ, এভাবে চালিয়ে যেতে থাকলে ১২৮ ম্যাচে রোনালদোর বর্তমান সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবেন হলান্ড।
প্রতি বছর বাছাই, প্রীতি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট মিলিয়ে যদি হলান্ড দেশের হয়ে ১০ ম্যাচ খেলেন, তাহলে সাত বছরের একটু বেশি সময়ে রোনালদোর রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার কথা তার। অর্থাৎ ৩২ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল হতে পারে তার, যেটি তিনি অর্জন করতে পারেন রোনালদোর চেয়ে প্রায় ১০ বছর কম বয়সে।
এভাবে চালিয়ে গেলে, ৪১ বছর বয়সে কত গোল করবেন হলান্ড? ২৬০!
অবশ্যই এটা কেবল মজা ও অনুমান। কেউই বলতে পারবে না কত দিন সর্বোচ্চ স্তরে টিকে থাকতে পারবেন হলান্ড। চোট কতটা ভোগাবে তাকে কিংবা বড় টুর্নামেন্টগুলোর চূড়ান্ত পর্বে নরওয়ে খেলে যেতে পারবে কিনা।
তবে এই মুহূর্তে হলান্ড হলেন নরওয়ের শীর্ষ ভাইকিং।