Published : 03 Jul 2026, 12:22 PM
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ নবজাতক সন্তান জন্ম দিয়েছেন এক নারী। কিন্তু জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চারজনই মারা গেছে।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার বিকাল ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত শিশুগুলোর মৃত্যু হয় বলে নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্রীতিরাজ চৌধুরী জানিয়েছেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থার নির্ধারিত সময় পূর্ণ হওয়ার আগেই শিশুগুলোর জন্ম হয়েছিল। ফলে ওজন কম থাকায় তাদের নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের সবধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও জন্মের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারটি শিশু একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। একমাত্র জীবিত শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পাঁচ নবজাতক সন্তান প্রসব করা চাঁদনী বেগম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান ডলারের স্ত্রী।
তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেজানা গেছে, ডলার দেড় বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনি বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে নতুন অতিথির আগমনের সংবাদে সবাই খুশি হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, চাঁদনির গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। এরপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ চলছিল।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন চাঁদনি বেগম। জন্মের পরই এক মেয়ে সন্তান মারা যায়।
রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চারটি শিশুকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। ইনকিউবেটর সংকট থাকায় স্বজনরা কোলে রেখে তাদের অক্সিজেন দিচ্ছেন।
শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্রীতিরাজ চৌধুরী বলছিলেন, “জন্মের পর চাঁদনি বেগমের পাঁচটি নবজাতকই জীবিত ছিল। তবে তাদের প্রত্যেকের ওজন ছিল মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম। এ ধরনের নবজাতকদের অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী বা এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট শিশু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
“নবজাতকদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (এনআইসিইউ) প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।”
বর্তমানে হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে জীবিত শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান প্রীতিরাজ।
শুক্রবার সকালে ওই ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স রিয়া বলেন, পাঁচটি শিশুর মধ্যে বর্তমানে এক ছেলে শিশু জীবিত রয়েছে। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
পুরনো খবর: