১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, তবু হাসি নেই পরিবারে

বাচ্চাগুলো ২৮ সপ্তাহের; তাদের ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 12:15 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:33 PM

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক নারী। 

নির্দিষ্ট সময়ের আগে কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ার তাদের নানা জটিলতা রয়েছে। এরই মধ্যে একটি শিশু মারা গেছে। ফলে পরিবার শিশুদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে অস্ত্রোপচার ছাড়াই শিশুদের জন্ম দেন চাঁদনি বেগম। এরমধ্যে তিনজন ছেলে ও দুজন মেয়ে সন্তান রয়েছে। একটি মেয়ে সন্তান মারা গেছে।

পরিবার জানায়, সদর উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান ডলার দেড় বছর আগে নগরকান্দা উপজেলার বড় কাজুলী গ্রামের চাঁদনি বেগমকে বিয়ে করেন। 

পরিবারে নতুন অতিথির আগমনের সংবাদে সবাই খুশি হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরিবার জানতে পারে চাঁদনীর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে। এরপর থেকে তারা নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিচ্ছিলেন। 

রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, চারটি শিশুকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। ইনকিউবেটর সংকট থাকায় স্বজনরা কোলে রেখে তাদের অক্সিজেন দিচ্ছেন। 

লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ নার্স মিনতি সরকার বলেন, বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে চাঁদনি বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। এরপর বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম বাচ্চার জন্ম হয়। এরপর ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি চারটি বাচ্চা প্রসব করেন তিনি। 

তিনি বলেন, বাচ্চাগুলো ২৮ সপ্তাহের। তাদের ওজন ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের মধ্যে। কারও চোখ ফোটেনি। সবকিছু মিলে বাচ্চাগুলো অস্বাভাবিক। এ ছাড়া মায়ের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, তার রক্তের প্রয়োজন।

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ চিকিৎসক প্বীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, “বাচ্চাগুলো সংকটাপন্ন। তাদের বিশেষ সাপোর্ট প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের এখানে সেটি নেই। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা জানিয়েছি। কিন্তু পরিবার সিদ্ধান্তহীনতা রয়েছে। এ ছাড়া আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি।”