Published : 15 Feb 2026, 06:04 PM
‘ডিসমেনোরিয়া’, বা মাসিকের সময় খিঁচুনি, একটি সাধারণ অবস্থা যা অনেক মহিলা তাদের মাসিক চক্রের সময় অনুভব করেন।
ওষুধ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন লক্ষণগুলো উপশম করতে সাহায্য করতে পারে। তবে ডিসমেনোরিয়া পরিচালনায় খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মাসিকের ব্যথা এবং খিঁচুনি উপশমে পুষ্টির ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন- দিনাজপুরের ‘রাইয়ান হেল্থ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’যের পুষ্টিবিদ লিনা আকতার।
মাসিকের সময় খিঁচুনির জন্য সুষম খাদ্যের গুরুত্ব
একটি সুষম খাদ্য, যার মধ্যে রয়েছে গোটা শস্য, ফলমূল, শাকসবজি, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি- এগুলো সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য অপরিহার্য।
তবে, কিছু পুষ্টি উপাদান মাসিকের ব্যথা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে।
মাসিকের খিঁচুনির জন্য ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডস
প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড মাসিকের ব্যথা ও খিঁচুনি কমাতর সাহায্য করে।
এই উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে- স্যামন এবং সার্ডিন বা চর্বিযুক্ত সামুদ্রিক মাছ, আখরোট, চিয়া বীজ এবং তিসির বীজ।
ক্যালসিয়াম
এটি হাড় ও দাঁত মজবুত রাখার জন্য পরিচিত এবং মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, পাতাযুক্ত শাক যেমন- পালংশাক ও টফু এবং কমলার রস।
ম্যাগনেসিয়াম
পেশি এবং স্নায়ুর কার্যকারিতার জন্য ম্যাগনেসিয়াম অপরিহার্য। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মাসিকের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে বাদাম, বীজ, গোটা শস্য এবং ডার্ক চকলেট।
ভিটামিন ডি
হাড়ের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অপরিহার্য ভিটামিন ডি। তবে এটি মাসিকের ব্যথা কমাতেও ভূমিকা পালন করতে পারে।
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মাছ, ডিমের কুসুম, দুধ, কমলা।
এড়িয়ে চলার খাবার
কিছু খাবার প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং মাসিকের ব্যথা আরও খারাপ করতে পারে। তাই মাসের নির্দিষ্ট দিনে সেসব খাবার এড়ানো হবে বুদ্ধি মানের কাজ।
প্রক্রিয়াজাত খাবার: প্রক্রিয়াজাত খাবারে চিনি, লবণ এবং অস্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি থাকে, যা প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং মাসিকের ব্যথা আরও খারাপ করতে পারে।
ক্যাফিইন: পানিশূন্যতা সৃষ্টি করতে পারে, যা খিঁচুনিকে আরও খারাপ করে তোলে। এটি উদ্বেগ এবং বিরক্তিও সৃষ্টি করতে পারে, যা মাসিকের লক্ষণগুলিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই চা কফি পান কমাতে হবে।
অ্যালকোহল: অ্যালকোহল প্রদাহকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং শরীরকে পানিশূন্য করে দিতে পারে। ফলে মাসিকের ব্যথা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন
মাসিক কালীন দুর্বলতা কাটানোর উপায়