০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

ভারী খাবারের পর সুস্থ থাকতে যা খাবেন

ভারী খাবার শুধু শারীরিক সমস্যা তৈরি করে না, এটি মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে।

বিডিনিউজ২৪

লিনা আকতার

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Mar 2026, 05:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:11 PM

ভারী খাবার খাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই হজমশক্তি ধীর হয়ে যায়। এতে পেট ফাঁপা, বদহজম, পেটে ব্যথা ও বমির মতো নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা আমাদের সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে।

হজম একটি প্রক্রিয়া যেখানে শরীর যথেষ্ট শক্তি ব্যয় করে। কারণ খাবার গ্রহণ করার পর শরীরকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত পাকস্থলী এবং অন্ত্রে প্রবাহিত করতে এবং অ্যাসিড, এনজাইম এবং পুষ্টি ভেঙে ফেলার মতো প্রয়োজনীয় গতিশীলতা নির্গত করতে হয়।

আর কোনো কারনে যদি এনজাইমের উৎপাদন হ্রাস পায় (বয়স, পুষ্টির ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত খাবারের কারণে), তাহলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় ধরে খাবার পেটে স্থির থাকে। আর তখনই পেট ভারীবোধ অনুভূত হয়।

অতি-তেল মসলাযুক্ত খাবার, স্যাচুরেইটেড ফ্যাট, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারগুলো বেশি গ্রহণে পেটে গ্যাস, অ্যাসিডিটি কারণ হয়ে দাড়ায়।

প্রতিটি খাবার খাওয়াতে অনন্ত দুতিন ঘন্টার বিরতি থাকা প্রয়োজন। ভারী খাবার শুধু শারীরিক সমস্যা তৈরি করে না, এটি মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ভারী খাবার গ্রহণের পর কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত।

হালকা গরম পানি

খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর হালকা গরম পানি পান করতে পারে। এর সাথে একটু লেবুর রস আর সামান্য লবণ মিশিয়ে পান করলে  বিপাক হার বৃদ্ধি পাবে এবং দূষিত পদার্থ বেরিয়ে আসবে।

তবে খাওয়ার মাঝখানে পানি পান করা ঠিক না। এছাড়া খাওয়ার পর পরই কখনই চা, কফি পান করা যাবে না।

এই ধরনের পানীয়তে ‘ফেনোলিক’ নামক যৌগ ও ক্যাফিইন থাকে যা খাবার থেকে পুষ্টি শোষন করতে বাধা দেয়।

দই

যে কোনো ভারী খাবার খেয়ে তার ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়া উপকারী। সবচেয়ে ভালো উপকার পাওয়া যায় টকদই খেলে। এটি দ্রুত হজমশক্তি দেয়, পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

দইয়ের সাথে ভাজা জিরা মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এতে আরও ভালো কাজে দেবে।

বোরহানি

খাবারের শেষে বোরহানি বা লাচ্ছি, মাঠা গ্রহণ করা উপকারী। এতে হজমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আদা এবং জিরা ভেজানো পানি

আদায় রয়েছে জিঞ্জেরল নামক উপাদান যা শরীরকে দ্রুত খাবার ভাঙতে সাহায্য করে এবং বমি বমি ভাব কমায়। এছাড়া অতিরিক্ত খাবার খেলে পেট খারাপের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

জিরাতে থাকা ‘কারমিনেটিভ’ পেটের গ্যাস কমাতে সহায়ক ভুমিকা রাখে। জিরা পানি তৈরির জন্য প্যাকেটের জিরা দিয়ে পানীয় বানানো যাবে না।

মৌরি বীজ

এটা পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলো শিথিল করতে সাহায্য করে যা বদহজম, পেট ফাঁপা ও গ্যাসের অস্বস্তি ভাব কমাতে পারে। ভারী খাবারের পরে এক চা-চামচ মৌরি বীজ চিরিয়ে খান।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার

হজমের জন্য চমৎকার কাজ করে। পানির সাথে মিশিয়ে খেলে এটি পাকস্থলীতে আরও অ্যাসিড তৈরিতে সাহায্য করে যা খাবার ভাঙার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারী খাবারের আগে বা পরে এক গ্লাস পানিতে এক চা-চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করলে পেট ভালো রাখতে সাহায্য করবে।

ফল

আমরা অনেকেই জানি ফল খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে এনজাইমসমৃদ্ধ ফল বেছে নেওয়াই ভালো। যেমন- পেঁপে বা আনারস।

পেঁপেতে থাকা পাপাইন এনজাইম এবং আনারস থাকা ব্রোমেলেইন এনজাইম প্রোটিনকে নরম করে যা ভারী খাবার হজমে সাহায্য করে।

তবে যাদের পেটের সমস্যা আগে থেকেই আছে, যেমন- ‘আইবিএস’ তাদের জন্য ভালো নাও হতে পারে।

ডিটক্স পানীয়

ভারী খাবারের পরে পানিতে সামান্য লেবু মিশিয়ে শসা, পুদিনা কিংবা তেঁতুল পানিও গ্রহণ করা যায় ডিটক্স পানীয় হিসেবে। এতেও হজমশক্তি উন্নত হবে।

হাঁটা

খুব বেশি খাওয়ার পরে হঠাৎ শরীরচর্চা করা যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হবে। এর পরিবর্তে হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। তবে ভারী ব্যায়াম করা যাবে না।

গবেষণায় দেখা গেছে খাবারের পরে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাটলে হজমশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি রক্তের শর্করাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

লেখক: পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

আরও পড়ুন

পেট ফাঁপা এড়ানোর পন্থা

পেটের অসুখ আইবিএসের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

পেটে গণ্ডগোল: আটটি গোপন লক্ষণ