Published : 17 Feb 2026, 04:10 PM
বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপমহাদেশের খাদ্যাভ্যাসে মসুর ডাল একটি অপরিহার্য অংশ। ভাতের সঙ্গে ডাল না হলে অনেকের খাবার অসম্পূর্ণ মনে হয়।
ডালনা, চচ্চড়ি, আমডাল, পুঁই ডাল, ডালের স্যুপ, পিঁয়াজু বা ডালপুরি— এসব পদে মসুর ডালের ব্যবহার অত্যন্ত সাধারণ।
উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে এটি নিরামিষভোজীদের খাদ্যতালিকায় বিশেষ স্থান দখল করে। তবে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন জানান, এই ডালের পুষ্টিগুণ অসাধারণ হলেও সবার জন্য এটি সমানভাবে উপকারী নয়।
এক কাপ রান্না করা মসুর ডালে সাধারণত থাকে- প্রায় ১৮০ ক্যালরি, ১০ গ্রাম প্রোটিন, ৬ গ্রাম আঁশ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও ফোলেইট।
ডা. নয়ন বলেন, “এসব উপাদান শক্তি যোগানো, রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। তবে কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় এই উপাদানগুলোই সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।”
গেঁটেবাত বা উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য মসুর ডাল এড়িয়ে চলা উচিত। এতে পিউরিনের পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যেতে পারে, যা জয়েন্টে ব্যথা ও প্রদাহ বাড়িয়ে দেয়।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রেও মসুর ডাল ঝুঁকিপূর্ণ। এতে উপস্থিত অক্সালেট কিডনিতে পাথর তৈরির প্রবণতা বাড়াতে পারে। যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে বা আগে থেকেই পাথরের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই ডাল সীমিত পরিমাণে বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাওয়া উচিত।
অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে মসুর ডালের উচ্চ আঁশীয় উপাদান গ্যাস, বুকজ্বালা ও পেট ফাঁপা বাড়িয়ে দিতে পারে।
যাদের ওজন নিয়ন্ত্রণের সমস্যা রয়েছে, তারা অতিরিক্ত পরিমাণে মসুর ডাল খেলে ক্যালরির কারণে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
কিছু ব্যক্তির শরীর মসুর ডাল সহ্য করতে পারে না। এতে অ্যালার্জি, চুলকানি, হজমজনিত অস্বস্তি বা পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডা. নয়নের মতে, “কোনো খাবারই সর্বজনীনভাবে উপকারী নয়। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, গেঁটেবাত বা দীর্ঘমেয়াদি হজমজনিত সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।”
সঠিক পরিমাণে ও সঠিক ব্যক্তির জন্য মসুর ডাল অত্যন্ত উপকারী হলেও ভুল পরিস্থিতিতে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন
বিভিন্ন প্রকার ডালের পুষ্টিগুণ