Published : 23 Jul 2023, 05:30 PM
‘কারকুমা ফাংশনাল ফুড’ নামের পণ্যটি সম্প্রতি দেশের বাজারে বিচরণ করছে। এই প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই খাবার দেহের নির্দিষ্ট সমস্যা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। যেমন- পেটের বা হাড়ের জোড়ের সমস্যা।
তবে অনেকেই মনে করে থাকতে পারেন, ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ অর্থাৎ সিরাপ, ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট আকারে যেসব ভিটামিন খাওয়া হয় সেগুলোও তো ‘ফাংশনাল ফুড’। তবে ব্যাপারটা তা নয়।
এই বিষয়ে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও ‘অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক অরুণ কুমার মণ্ডল বলেন, “ফাংশনাল ফুড’ সম্পর্কে বুঝতে হলে প্রথমে ‘কনভেনশনাল ফুড’ বা প্রচলিত খাবার সম্পর্কে আগে জানতে হবে।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, “সাধারণত আমরা যা খাই, মানে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে যেসব খাবার থাকে সেগুলোই ‘কনভেনশনাল ফুড’ বা প্রচলিত খাবার। আর এগুলো থেকেই আমাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। এখন কোনো একটা কারণে- সেটা হতে পারে এলাকা বা পরিবেশগত কিংবা খাদ্যাভ্যাসের জন্য কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হচ্ছে। যেখান থেকে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেটা পূরণ করতে গিয়ে ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার কথা বলা হয়। যেমন- ভিটামিন এ বা ই ক্যাপ্সুল বা মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট ইত্যাদি।”
“এদিকে নির্দিষ্ট সমস্যা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখে ‘ফাংশনাল ফুড’। যাতে থাকে বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান। মানে পুষ্টি উপাদান ছাড়াও খাবারে এমন কিছু উপাদান থাকে যা দেহের বিভিন্ন উপকারে লাগে। যেমন- হলুদ একটি মসলা, এতে থাকা বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান ‘কারকিউমিন’ দেহের নানান উপকারে কাজ করে। আর ‘ফাংশনাল ফুড’ তাকেই বলা হচ্ছে- যেটাতে পুষ্টি চাহিদার ঊর্দ্ধে গিয়ে এক বা একাধিক বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি খাবার।”
এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা উচিৎ- দেহের কোনো সমস্যা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখে ‘ফাংশনাল ফুড’। কারণ ওষুধ উল্লেখ করা হয় তখনই যখন সেটা রোগ নিরাময় করতে পারে। এই কারণে সারা বিশ্বে ‘ফাংশনাল ফুড’কে ওষুধ আইনের আওতায় রাখা হয়নি, হয়েছে খাদ্য আইনের মধ্যে।
তবে ফাংশনাল ফুডে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হবে, তা বৈজ্ঞানিক ভাবে স্বীকৃতি থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ৫টি বৈশিষ্টের কথা বলা হয়
নিরপদ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থাকতে হবে।
ওষুধ নয়, সমস্যা নিরসনে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
যেখানে তৈরি হবে সেই প্রতিষ্ঠান বা কারখানার পরিবেশন নির্দিষ্ট মাপকাঠিতে মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
যে দেশের যে নিয়ম, সেই দেশের সেই নিয়ম অনুযায়ী লেবেল থাকত হবে।
আর পণ্যের গুণগত মান নিজেদের মানে প্রতিষ্ঠানের নিশ্চিত করতে হবে।
তবে শেষের শর্তটি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পালন করা হলেও, আমাদের দেশে এই নিয়ম নেই। তাই সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান এই কাজটি করে।
এই প্রেক্ষিতে মণ্ডল জানান, আমাদের দেশে ২০১৩ সালের নিরাপদ খাদ্য আইনের ৩১ ধারায় ‘ফাংশনাল ফুড’সহ অন্যান্য এই ধরনের সাপ্লিমেন্ট যা আছে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তার মানে হলে, ‘ফাংশাল ফুড’কে একটা খাবার হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তবে ‘ফুড সাপলিমেন্ট’ যেমন একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে খেতে হয় তেমনি ‘ফাংশাল ফুড’য়ের নির্দিষ্ট কোর্স শেষ করতে হয় বলে জানান, অরুণ কুমার মণ্ডল।
তাই ‘ফাংশনাল ফুড’ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেন এই খাদ্য বিশেষজ্ঞ।
আরও পড়ুন