Published : 05 Jul 2023, 06:28 PM
মাটির নিচে জন্মানো ফলাকার উদ্ভিদ, যাকে বলে কন্দ, যেমন- আলু মূলা কচু- কেবল খেতেই মজার নয় বরং পু্ষ্টিগুণেও ভরপুর।
হেল্থ শটস ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এরকম কয়েকটি মূলজাতীয় খাবারের গুণাগুণ সম্পর্কে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা।
গাজর: চোখের জন্য ভালো

উজ্জ্বল কমলা বর্ণের মূলজাতীয় সবজি গাজর বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ যা দেহে ভিটামিন এ হিসেবে কাজ করে।
ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর ফোর্টিস হাসপাতালের পুষ্টিবিদ ভারতী কুমার বলেন, “এই অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ভালো রাখে।”
এছাড়াও দেহে ভালো পরিমাণে আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যোগায় গাজর।
মিষ্টি আলু: শক্তির উৎস

মিষ্টি আলু প্রাকৃতিক শক্তির উৎস। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ, ভিটামিন এ, সি এবং পটাসিয়াম থাকে।
এই পুষ্টিবিদের মতে, “জটিল কার্বোহাইড্রেইটগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে অবদান রাখে এবং উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।”
খাবার তালিকায় মিষ্টি আলু যোগ করা স্বাদের পাশাপাশি পুষ্টিও যোগায়।
বিট: হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

কুমার ব্যাখ্যা করেন, “বিটরুট কম ক্যালরি ও উচ্চ পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। এতে আছে আঁশ, ফোলেইট, ম্যাঙ্গানিজ এবং পটাসিয়াম।”
এতে থাকা নাইট্রেটস হৃদ-স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও বিট অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায় ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।
মূলা: নানান পুষ্টি উপাদানের উৎস

মূলা রান্না করে বা কাঁচা- দুভাবেই খাওয়া যায়। এটা কেবল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ নয় বরং আঁশ ও ভিটামিন সি’রও ভালো উৎস।
কুমারের মতে, “এই কন্দ ধরনের সবজি হজমকারী এনজাইম নিঃসৃত করে হজমে সহায়তা করে।”
এছাড়াও আছে প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য যা যকৃত সুস্থ রাখতেও সহায়ক।
শালগম: উচ্চমানের পুষ্টিগুণ সম্পন্ন

আছে আঁশ, ভিটামিন সি, কে এবং খনিজ যেমন- পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম।
এতে ক্যালরির মাত্রা কম এবং জলীয় উপাদান বেশি যা দেহের আর্দ্রতা রক্ষা করে। এতে থাকা ‘গ্লুকোসিনোলেইটস’ যৌগ ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
পার্সনিপ্স: খাবারে দেয় মিষ্টি স্বাদ
গাজরের মতোই দেখতে তবে মিষ্টি স্বাদ ও সাদা রংয়ের পুষ্টিকর মূলজাতীয় সবজি। এটা আঁশ, ভিটামিন সি ও ফোলাইট’য়ের ভালো উৎস।
ডা কুমার বলেন, “পার্সনিপ্স পটাসিয়াম সরবারহ করে, যা হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারী। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দীর্ঘমেয়াদী রোগের ঝুঁকি কমায়।”