তেল নাকি লোশন: ত্বকের জন্য কোনটা বেশি উপকারী?

তেল চিটচিটে-ভাব অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Feb 2024, 10:40 AM
Updated : 3 Feb 2024, 10:40 AM

ত্বক আর্দ্র রাখতে বডি লোশন ও তেল- দুটোই উপকারী। কাজ এক হলেও কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

পণ্যে ব্যবহৃত উপকরণের ভিত্তিতে এর কাজে কিছুটা তারতম্য ঘটে।

গায়ে মাখা তেল বলতে যা বোঝায়

নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক দুবার বোর্ড প্রত্যয়িত ত্বক এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ব্রেন্ডান ক্যাম্প বলেন, “ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত তেলগুলো প্রাকৃতিক উপাদান যেমন- জোজোবা, জলপাই, আর্গন, সূর্যমুখী ও কাঠবাদাম থেকে তৈরি করা হয়।”

বাজারে ঘনত্বের ভিত্তিতে নানান রকমের তেল পাওয়া যায়।

রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ডা. ক্যাম্প, ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এসব ভিটামিন ফ্রি রেডিকেল থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে।

ডা ক্যাম্প আরও বলেন, “ফ্রি অক্সিজেন রেডিকেল হল অশান্ত অক্সিজেন অণু যা কোষের ক্ষয় ও অকালে বয়সের ছাপ পড়ায় ভূমিকা রাখে।”

বডি লোশন

বডি লোশন ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র থাকে। লোশনে ব্যবহৃত অতি প্রচলিত উপাদান হায়ালুরনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা ও সুরক্ষার স্তর উন্নত করে।

‘আভেদা আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সস ইন্সটিটিউট মিনিয়াপলিস’য়ের সৌন্দর্য প্রশিক্ষক অ্যালেক্স হাসচা একই প্রতিবেদনে বলেন, “লোশন দেহে তাড়াতাড়ি ও সহজে শোষিত হয়।”

তার কথায়, “বডি লোশনে সাধারণত তেল মেশানো থাকে, তবে সেটা কেবল-ই তেল নয়। এত থাকে পানিতে দ্রবণীয় উপাদান এবং তেলে দ্রবণীয় উপাদানের সংমিশ্রণ যা ঘন ও ক্রিমধর্মী হিসেবে কাজ করে।”

বডি লোশন- তেল ও পানি ভিত্তিক সংমিশ্রণ হওয়ার কারণে যারা তেল ব্যবহারের পর চিটচিটে-ভাব পছন্দ করেন না, তাদের জন্য ভালো। 

আর্দ্রতা কতক্ষণ স্থায়ী হয়?

দীর্ঘ সময় আর্দ্রতা ধরে রাখতে তেল ও লোশনের মিশ্রণ ব্যবহার করা ভালো। লোশন দেহের আর্দ্রতা ত্বকে আটকে রাখে। আর তেল আর্দ্রতা ধরে রাখার পাশাপাশি বাড়ায় প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।

“এগুলো ব্যবহারে ত্বক মসৃণ, কোমল ও উজ্জ্বল দেখায়। প্রাকৃতিক উপাদান যেমন- ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকে প্রতিরক্ষক হিসেবে কাজ করে”- বলেন ডা. ক্যাম্প। 

শুষ্কতা, চুলকানি প্রতিরোধ করতে বডি লোশন আর্দ্রতা যোগায়।

ডা. ক্যাম্প বলেন, “বডি লোশনে প্রায়ই এমন কিছু উপাদান ব্যবহার করা হয় যা ত্বকের সুরক্ষার স্তর মজবুত করে এবং বাহ্যিক পরিবেশের হাত থেকে রক্ষা করে।”

ব্যবহারের কৌশল

বডি অয়েল ও লোশন দুটোই প্রতিদিন ব্যবহারের জন্য নিরাপদ।

ডা. ক্যাম্প পরামর্শ দেন, “শীতকালে বা কারও শুষ্কতা ও একজিমার সমস্যা থাকলে তেল ও লোশন দিনে দুবার ব্যবহার করতে হবে।”

তেল বা লোশন ব্যবহারের ভালো সময় হল গোসলের পরে।

“আর্দ্র অবস্থায় তেল বা লোশন ব্যবহার গভীরে শোষণ করতে সহায়তা করে। দুটাই একসাথে ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে লোশন ও পরে তেল ব্যবহার করতে হবে”- বলেন ডা. ক্যাম্প।

“বডি লোশন ব্যবহারের সময় নিচ থেকে ওপরের দিকে মালিশের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে মৃত কোষ দূর হয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে” বলেন হাসচা। 

গোসলের সময় তেল ব্যবহার কতটা কার্যকর?

ত্বকের ধরন বুঝে পণ্য নির্বাচন করতে হয়।

“সহজের শুষ্ক হয়ে যায় এমন ত্বকে ভারী পণ্য ব্যবহার করতে হবে। ব্রণ প্রবণ ও সংবেদনশীল ত্বকে নারিকেল তেল ব্যহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ এতে আছে কমেডোজেনিক ক্ষমতা যা ব্রণ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

এই ধরনের ত্বকে হালকা পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দেন, ডা. ক্যাম্প।

ছবি: পেক্সেল্স ডটকম

আরও পড়ুন

Also Read: লোশন ও ক্রিম- মাখতে হয় আলাদা সময়ে

Also Read: বডি লোশন কি মুখে মাখা যায়?

Also Read: ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পন্থা