Published : 23 Aug 2023, 01:15 PM
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি’র এক গবেষণা পত্রে ‘ফাংশনাল ফুড’ সম্পর্কে বলা হয় এভাবে-
যেসব খাবার বা খাবারেরর উপাদান পুষ্টির চাহিদা মিটিয়েও স্বাস্থ্যোপকারিতা দেয়।
এই ধরনের খাবার যোগ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগ প্রতিরোধ ও অবস্থা উন্নত করে।
ফাংশনাল ফুডের ইতিহাস
প্রথমেই জেনে রাখা ভালো, এটা ওষুধ নয়। খাবারের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়।
কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি’র ওই গবেষণা পত্রে উল্লেখ করা হয়, খাবারের মাধ্যমে সুস্থ থাকার এই পদ্ধতি হাজার বছরের পুরানো। বলতে গেলে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ বছর আগে গ্রিক চিকিৎসক হিপোক্রেটিসের উক্তি ‘খাবার হোক ওষুধ আর ওষু্ধই খাদ্য’- থেকে এই ধারণা পাওয়া যায়।
হেল্থলাইন’য়ের ওই প্রতিবেদনে ‘ফাংশনাল ফুড’য়ের ইতিহাস সম্পর্কে বলা হয় যে, প্রমাণিত উপকারের ভিত্তিতে সাধারণ জনগনের স্বাস্থ্যোপকারিতার জন্য ১৯৮০ সালে জাপান সরকার এই ধরনের খাবার সমর্থন দেওয়া শুরু করে।
এর থেকে ১৯৯১ সালে আইন প্রণয়ন করে ‘ফুড ফর স্পেশালাইজড হেল্থ ইউজ (এফওএসএইচইউ)’ বিভাগের আওতায় কিছু খাবার সংযুক্ত করার মাধ্যমে জাপান সরকার সেগুলোতে এফওএসএইচইউ লেবেল দেওয়ার অনুমোদন দেয়।
১৯৯০ সালের শেষ দিকে ইউরোপে ফাংশনাল ফুড নিয়ে বিজ্ঞান-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠার জন্য ‘ইউরোপিয়ান কমিশন কনসার্টেড অ্যাকশন অফ ফাংশনাল ফুড সায়েন্স ইন ইউরোপ (এফইউএফওএসই) প্রতিষ্ঠা করা হয়।
মৌলিক পুষ্টি পূরণের বাইরে স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করতে পারে যে খাবার বা খাদ্য উপাদান (খাবারের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান)- বর্তমানে সেগুলোকেই ফাংশনাল ফুড হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
‘ফাংশনাল ফুড’য়ের উদাহরণ
সাধারণভাবে আমরা যে খাবার খাই, তা দুভাবে ভাগ করা হয়- কনভেনশনাল বা প্রচলিত খাবার এবং মডিফায়েড বা রূপান্তর করা খাবার।
প্রচলিত খাবারের মধ্যে আছে- পরিপূর্ণ খাবার যা কিনা প্রক্রিয়াজাত করা হয়নি। এগুলোতে উচ্চমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিকর উপাদান থাকে, যেমন- ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও হৃদ-স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী চর্বি।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যোপকারিতার জন্য ভিটামিন, খনিজ, প্রোবায়োটিক বা আঁশ- এই ধরনের উপাদান রূপান্তরিত খাবারে আলাদা করে যুক্ত করা হয়।
এই বিষয়ে খাদ্য বিশেষজ্ঞ ও ‘অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক অরুণ কুমার মণ্ডল বলেন, “সাধারণত আমরা যা খাই, মানে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে যেসব খাবার থাকে সেগুলোই ‘কনভেনশনাল ফুড’ বা প্রচলিত খাবার। আর এগুলো থেকেই আমাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। এখন কোনো একটা কারণে- সেটা হতে পারে এলাকা বা পরিবেশগত কিংবা খাদ্যাভ্যাসের জন্য কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হচ্ছে। যেখান থেকে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেটা পূরণ করতে গিয়ে ‘ফুড সাপ্লিমেন্ট’ গ্রহণ করার কথা বলা হয়। যেমন- ভিটামিন এ বা ই ক্যাপ্সুল বা মাল্টি ভিটামিন ট্যাবলেট ইত্যাদি।”
“এদিকে নির্দিষ্ট সমস্যা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখে ‘ফাংশনাল ফুড’। যাতে থাকে বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান। মানে পুষ্টি উপাদান ছাড়াও খাবারে এমন কিছু উপাদান থাকে যা দেহের বিভিন্ন উপকারে লাগে। যেমন- হলুদ একটি মসলা, এতে থাকা বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান ‘কারকিউমিন’ দেহের নানান উপকারে কাজ করে। আর ‘ফাংশনাল ফুড’ তাকেই বলা হচ্ছে- যেটাতে পুষ্টি চাহিদার ঊর্দ্ধে গিয়ে এক বা একাধিক বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি খাবার।”
বাংলাদেশে এই ধরনের ‘ফাংশনাল ফুড’ বাজারজাত করছে অর্গানিক নিউট্রিশন লিমিটেড। ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ এগ্রিকালচা’য়ের সনদ স্বীকৃত তাদের বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য ‘অর্গানিক হেলদি গাট’, অস্থি-জোড়ের সমস্যা কমাতে ‘জয়েন্ট গার্ড’, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ‘ইমিউন প্লাস’ ইত্যাদি।
অরুণ কুমার মণ্ডল এই বিষয়ে পরিষ্কার করেন যে, “মনে রাখতে হবে এটা কোনো ওষুধ নয়। খাবারের উপাদানের মাধ্যমে নিয়মিত বা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গ্রহণ করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের উপকার ঘটানো ও দেহের সমস্যা প্রতিরোধ ও কমিয়ে আনা হয়।”
হেল্থলাইন ডটকম’য়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ‘ফাংশনাল ফুড’ এমন ধরনের খাবার যাতে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যোপকার হয়। শুধু পুষ্টির চাহিদা পূরণ নয় বরং রোগ প্রতিরোধ ও দৈহিক বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তবে মনে রাখতে হবে, ‘ফাংশনাল ফুড’য়ের কার্যকারিতার জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। তাই এই ধরনের খাবার গ্রহণের জন্য একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও পড়ুন
পেটের সমস্যা নিরসনে ‘ফাংশনাল ফুড’
কারকুমা জয়েন্ট গার্ড: ব্যথার ওষুধ না