Published : 14 Jul 2026, 05:34 PM
বর্ষা মানেই কাদা, বৃষ্টি আর ভেজা জুতা। বাইরে থেকে ঘরে ফেরার সময় জুতার সঙ্গে কাদা, ধুলাবালি, ছোট ময়লা কণা এমনকি বিভিন্ন জীবাণুও ঘরে ঢুকে পড়ে।
তাই ঘর ঝাড়ু দেওয়া বা মোছাতেই যথেষ্ট পরিষ্কার হয় না।
ফ্যাশন ও ইন্টেরিয়র ডিজাইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রেডিয়েন্ট ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন-এর প্রতিষ্ঠাতা অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “ঘরের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার প্রথম ধাপ শুরু হয় দরজার সামনের পাপোশ থেকেই। বিশেষ করে বর্ষাকালে পরিষ্কার ও শুকনো পাপোশ ব্যবহার করলে ঘরের মেঝে যেমন পরিষ্কার থাকে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটা কমানো যায়।”
যে কারণে গুরুত্বপূর্ণ দরজার সামনের পাপোশ
বাইরে থেকে আসা ময়লার বেশির ভাগই থাকে জুতার তলায়। দরজার সামনে রাখা পাপোসের প্রধান কাজ হল, সেই ময়লা, কাদা ও আর্দ্রতা আটকে দেওয়া।
“পাপোশ পরিষ্কার না থাকলে সেটিই আবার জীবাণু ও দুর্গন্ধের উৎস হয়ে ওঠে। ফলে জুতা মুছলেও খুব একটা উপকার পাওয়া যায় না”, বলেন গুলশান নাসরিন।
বর্ষাকালে ঘরে প্রবেশের আগে জুতার তলা ভালোভাবে পাপোসে ঘষে নিলে অনেকাংশেই কাদা ও পানি বাইরেই আটকে যায়। এতে ঘরের মেঝে কম নোংরা হয় এবং বারবার পরিষ্কার করার ঝামেলাও কমে।
বর্ষায় বাড়ে ঝুঁকি
বৃষ্টির সময় মাটিতে জমে থাকা পানি ও কাদার সঙ্গে নানান জীবাণু, ছত্রাক এবং দূষিত পদার্থ মিশে থাকে। এগুলো জুতার তলার মাধ্যমে ঘরে প্রবেশ করতে পারে।
ঘরের ছোট শিশু অনেক সময় মেঝেতে বসে খেলাধুলা করে। ফলে নোংরা মেঝের মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
“আর্দ্র পরিবেশে ছত্রাক দ্রুত জন্মায়। দীর্ঘদিন ভেজা ও অপরিষ্কার পাপোশ ব্যবহার করলে সেখান থেকে দুর্গন্ধও তৈরি হতে পারে”, বলেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল হাসান।
মেঝে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে
বর্ষার সময় দিনে একাধিকবার মেঝে মোছা উপকারী। কারণ পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে ফিরে কাদা ও পানি নিয়েই ঘরে প্রবেশ করেন। তবে এক্ষেত্রে ভালো এবং পরিষ্কার পাপোশ ঝামেলা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
পাপোসের শক্ত আঁশ জুতার তলায় লেগে থাকা কাদা, বালু, শুকনো পাতা এবং ছোট পাথরের কণা আটকে দেয়।
ফলে সেগুলো ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে না। এতে মেঝে দীর্ঘ সময় পরিষ্কার থাকে।
পিছলে পড়ার ঝুঁকি কমায়
বর্ষার দিনে জুতার সঙ্গে পানি ঘরে ঢুকলে মেঝেতে পিছলে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
“তবে পাপোশ ঠিকভাবে পানি শোষণ করতে পারলে জুতার বেশিরভাগ আর্দ্রতাই সেখানে আটকে যায়। এতে মেঝে তুলনামূলকভাবে শুকনো থাকে”, বলেন গুলশান নাসরিন
পাপোশ যেভাবে পরিষ্কার রাখতে হয়
“বর্ষাকালে অন্তত সপ্তাহে এক থেকে দুইবার পাপোশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা উচিত। যদি প্রতিদিন বেশি মানুষ যাতায়াত করে, তাহলে ঘন ঘন পরিষ্কার করা প্রয়োজ “, বলেন চিকিৎসক কামরুল হাসান।
প্রথমে পাপোশ ঝেড়ে জমে থাকা ধুলাবালি, কাদা ও শুকনো ময়লা সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে আবার ব্যবহার করা উচিত।
গুলশান নাসরিন বলেন, “ভেজা অবস্থায় দীর্ঘ সময় ফেলে রাখলে সেখানে ছত্রাক জন্মাতে পারে এবং দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে।”
পাপোশ বাছাইয়ের পন্থা
বর্ষার জন্য এমন পাপোশ বেছে নেওয়া ভালো, যেটার আঁশ কিছুটা শক্ত এবং জুতার তলার কাদা সহজে তুলে ফেলতে পারে।
গুলশান নাসরিন পরামর্শ দেন, “নিচের অংশ এমন হওয়া উচিত যাতে সহজে সরে না যায়। পাশাপাশি এমন উপাদানের পাপোশ বেছে নেওয়া ভালো, যা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে পরিষ্কার করা যায়।”
আরও পড়ুন
যেসব কাপড় গরম পানিতে পরিষ্কার করা ভালো