Published : 24 May 2026, 03:04 PM
কোরবানির ঈদের আগের রাতে কেউ মসলা কিনতে বের হচ্ছেন, কেউ জিপলক ব্যাগ খুঁজছেন, কেউ বড় হাঁড়ির সন্ধানে দোকানে দোকানে ঘুরছেন।
বাজারে ঠেলাঠেলি, যানজটে আটকে আছেন, আর মনের ভেতরে একটাই চিন্তা, ‘কেন আগে করিনি?’
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম এই বিষয়ে বলেন, “কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে রান্নার উপকরণ, সংরক্ষণের ব্যবস্থা, সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে অনেকেই হিমশিম খান। বিশেষ করে ঈদের আগের দুতিন দিনে বাজারে জিনিসের দামও বেড়ে যায়।”
“একটু আগে থেকে পরিকল্পনা করলে এই ঝামেলার বড় অংশই এড়ানো সম্ভব”, বলেন তিনি।
তাহলে কোন কাজগুলো আগেই সেরে ফেলবেন?
মসলার বাজার আগেই করা
কোরমা, কালাভুনা, রেজালা, কাবাব, প্রতিটি পদেই আলাদা মসলার প্রয়োজন। তবে ঈদের আগের দিন মসলার দোকানে গেলে ভিড়ের মধ্যে পছন্দমতো জিনিস পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে, আর দামও হতে পারে বেশি।
তাই সময় থাকতে মসলাসহ অন্যান্য উপাদান, যেমন ঘি, সরিষার তেল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা কিনে রাখলে সুবিধা হয়। সঙ্গে শুকনো মসলা আগে কিনলে দাম কম থাকে এবং পরে আর এই নিয়ে ভাবতে হয় না।
মাংস সংরক্ষণের উপকরণ
কোরবানির পরের সবচেয়ে বড় কাজটা হল, মাংস ভাগ করে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। আর এজন্য চাই জিপলক ব্যাগ আর পলিথিন।
তাই আগে থেকেই কিনে রাখা উচিত ফুড গ্রেড পলিব্যাগ, জিপলক ব্যাগ, প্লাস্টিক বা স্টিলের কনটেইনার এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল।
“মার্কার বা লেবেল স্টিকার রাখলে কোন প্যাকেটে কী আছে সেটা লিখে রাখা যায়। পরে ফ্রিজ থেকে বের করতে সুবিধা হবে”, বলেন আকতারুল আলম।
মাংস ছোট ছোটা ভাগে প্যাকেট করলে প্রতিবার পুরো প্যাকেট না খুলে দরকার মতো বের করা যায়। একবার গলানোর পর আবার জমানো ঠিক নয়, তাই ছোট ছোট ভাগে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি পরখ করা
কোরবানির দিন সকালে ছুরি ভোঁতা আবিষ্কার করা বা না পাওয়া — এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সেদিন দোকান খোলা থাকে না, আর খোলা থাকলেও ভিড়ে ঢোকা যায় না।
তাই এখনই দেখে নিতে পারেন ছুরি ধারালো আছে কি-না, কাটিং বোর্ড ঠিকঠাক কি না।
বড় হাঁড়ি বা ডেকচি দরকার হলে আগেই কিনে রাখা ভালো। ডিসপোজেবল গ্লাভস, টিস্যু ও পরিষ্কার কাপড় রাখা উচিত হাতের কাছে।

পরিষ্কারের উপকরণ ভুললে বিপদ
কোরবানির পর পরিষ্কার রাখাটা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। রক্ত বা বর্জ্য দ্রুত পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে।
তবে ঈদের দিনগুলোতে এই উপকরণ পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তাই ব্লিচিং পাউডার, জীবাণুনাশক স্প্রে, ফিনাইল বা ফ্লোর ক্লিনার, ময়লার বড় ব্যাগ, ব্রাশ ও মোপ — এগুলো এখনই কিনে রাখা যেতে পারে।
কোরবানির পরপরই পরিষ্কার শুরু করতে পারলে পরিবেশ সুস্থ থাকে এবং প্রতিবেশীদের জন্যও অসুবিধা কম হয়।
অতিথির জন্যও আগাম প্রস্তুতি রাখা
ঈদের সময় আত্মীয়স্বজনের আনাগোনা হয়। হঠাৎ অতিথি এলে নাস্তা বা পানীয় না থাকলে অস্বস্তি পড়া স্বাভাবিক।
সেমাই, চিনি, দুধ, বিস্কুট, চানাচুর, চা-কফি — এগুলো আগেই কিনে রাখা যেতে পারে। কোমল পানীয় বা ডেজার্টের উপকরণও তালিকায় রাখা ভালো। এই ছোট প্রস্তুতি অতিথি আপ্যায়নকে অনেক সহজ করে দেয়।
আকতারুল আলম বলেন, “পরিবারে ছোট শিশু থাকলে তাদের জন্যও আলাদা করে ভাবা যেতে পারে। নতুন পোশাক, টিস্যু, ওয়েট ওয়াইপস, হালকা খাবার আর প্রয়োজনীয় ওষুধ — ঈদের ব্যস্ততায় যেন শিশুদের প্রয়োজন উপেক্ষিত না হয়।”
তালিকা ও বাজেট
ঈদের এই সময়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কিনে ফেলা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বাজারে গিয়ে মনে হয় এটাও লাগবে, ওটাও লাগবে। ফলে মাসের শেষে হিসাব মেলে না।
আকতারুল আলম পরামর্শ দেন, “বাজারে যাওয়ার আগে একটি তালিকা তৈরি করা যেতে পার। জরুরি, প্রয়োজনীয় আর অতিরিক্ত এই তিনভাগে ভাগ করে নিন তালিকা। এতে অপ্রয়োজনীয় খরচ অনেকটা কমে আসে।
আর ভিড় এড়াতে চাইলে ভারী বা বেশি পরিমাণ পণ্য অনলাইনে অর্ডার করা যেতে পারে। সময় বাঁচে, বাড়তি ঝামেলাও কমে। শুধু ডেলিভারির সময় পণ্যের মান যাচাই করে নিতে ভোলা যাবে না।”
কোরবানির ঈদ ত্যাগের উৎসব, ব্যস্ততার নয়। ছোট্ট একটু পরিকল্পনা আর সময়মতো কেনাকাটাই পারে এই ব্যস্ততাকে আনন্দে বদলে দিতে।
আরও পড়ুন