Published : 23 Mar 2026, 03:12 PM
ঘরে ঢুকতেই যদি চারদিকে ছড়ানো জিনিসপত্র, টেবিলে এলোমেলো কাগজপত্র, রান্নাঘরে বাসনের স্তূপ, আলমারিতে গাদাগাদি জামাকাপড়— তাহলে মনের ওপর কী প্রভাব পড়ে?
বেশিরভাগ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা, এতে প্রচণ্ড বিরক্ত হন। তবে এই বিরক্তি শুধু চোখের নয়— এর পেছনে রয়েছে শরীরের ভেতরের একেবারে বাস্তব জৈবিক প্রতিক্রিয়া।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “অগোছালো ঘর দেখলে মস্তিষ্কে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়, কাজে মন বসে না, উদ্বেগ বাড়ে। ঘর গোছানো মানে শুধু সৌন্দর্য নয়— এটা মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন।”
অগোছালো ঘর যে কারণে মনকে ভারী করে
আমাদের ঘরে প্রায়ই জমে থাকে বহু বাড়তি জিনিস— পুরোনো জামা, স্কুলের খাতা, কোনো বিশেষ উপহার, ফাঁকা প্লাস্টিকের ডিব্বা, ভাঙা ইলেকট্রনিকস, বছরের পর বছরের বিদ্যুৎ বিল আর পুরানো রসিদ।
এসব জিনিস দেখে মনে হয়— ‘কখনও লাগতে পারে’। কিন্তু এই ‘কখনও’ আর আসে না। ফলে ঘরে জায়গা কমে, ধুলো জমে, পরিচ্ছন্নতা নষ্ট হয়।
এই অবস্থা মস্তিষ্কে স্ট্রেস সিগন্যাল পাঠায়।
ডা. দিনা বলেন, “গবেষণায় দেখা গেছে, অগোছালো পরিবেশে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়, যা উদ্বেগ, চাপ ও ক্লান্তি বাড়ায়। ঘর যত অগোছালো, মন তত অস্থির।”
কেন জিনিস ফেলতে কষ্ট হয়
পুরান জিনিস ফেলতে গেলে স্মৃতির টান কাজ করে। সেই জামাটা যেদিন প্রথম পরা হয়েছিল, সেই উপহারটা কোনো প্রিয়জন দিয়েছিলেন— এসব ভেবে ফেলা যায় না। আবার ‘কখনো লাগতে পারে’ ভাবনা অনেককে আটকে রাখে।
ফাঁকা বোতল, ভাঙা ঘড়ি, পুরানো তার— এসব রেখে দেওয়া হয় একদিন কাজে লাগবে ভেবে।
“শুরু করার ভয়ও কাজ করে— কোথা থেকে শুরু করব, এই ভেবে হাতই দেন না অনেকে। উদ্বেগ বা এডিএইচডির মতো সমস্যা থাকলে ঘর গোছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে”, বলেন ডা. দিনা।
ঘর গোছানোর সহজ উপায়
“একবারে পুরো ঘর গোছানোর চেষ্টা করবেন না। প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট সময় নিয়ে আলাদা কোনা বা আলমারির একটা অংশ পরিষ্কার করুন” পরামর্শ দেন ডা. দিনা।
চার ভাগে ভাগ করতে হবে— রাখব, দান করব, ফেলে দেব আর পরে ভাবব।
গত এক বছরে যেসব জামা পরা হয়নি, সেগুলো দান করে দিন। প্ররয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন— টেবিল বা কাউন্টার যত খালি থাকবে, মন তত হালকা লাগবে।
প্রতিদিন অল্প সময় দিয়ে ব্যবহার করা জিনিস জায়গামতো রাখুন। নতুন কিছু কেনার আগে প্রশ্ন করুন— এটা সত্যিই দরকার?
ডা. দিনা বলেন, “অগোছালো ঘরের মতো ফোন, কম্পিউটারেও ‘ক্লাটার’ জমে। অপ্রয়োজনীয় ছবি, পুরোনো ভিডিও, অপঠিত ই-মেইল— এসব নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ডিজিটাল ক্লাটারও মনকে ভারী করে।”
গোছানো ঘর মানসিক যত্নের অংশ
ঘর গোছাতে গিয়ে অনেক সময় আবেগ কাজ করে। পুরান ছবি বা প্রিয়জনের উপহার ফেলতে কষ্ট হয়।
তবে মনে রাখতে হবে— জিনিস নয়, স্মৃতিটাই আসল। স্মৃতি মনের ভেতরেই বেঁচে থাকে। কম জিনিস, খালি জায়গা আর পরিপাটি পরিবেশ মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনে।
আরও পড়ুন