Published : 20 Apr 2026, 04:53 PM
পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে হাত-পা ঠাণ্ডা হওয়া, শরীরে অবশ ভাব এবং বারবার টয়লেটে যাওয়ার তাড়া— এই অভিজ্ঞতা অনেকেরই চেনা।
কোনো উদ্বেগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়লেই অনেকে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভব করেন। এটি কোনো মানসিক দুর্বলতা নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন বলেন, “দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপে শরীর ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়ায় চলে যায়। এতে অ্যাড্রেনালিন হরমোন বেড়ে যায়, যা মূত্রথলির পেশিকে সংকুচিত করে এবং অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে অল্প মূত্র থাকলেও ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হয়।”
যে কারণে দুশ্চিন্তায় প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যায়
মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় শরীরের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে-
রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি মানসিক চাপে কিডনি বা বৃক্ক ও মূত্রাশয়ে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে দ্রুত মূত্র তৈরি হয় এবং বেগ অনুভূত হয়।
অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা উদ্বেগের কারণে মূত্রাশয় সামান্য পূর্ণ হলেই মস্তিষ্ক তাড়াতাড়ি সংকেত পাঠায়। এতে বারবার টয়লেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে।
হরমোনের প্রভাব উদ্বেগ বাড়লে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোনগুলো মূত্রথলির পেশিকে সংকুচিত করে এবং তাকে অতিরিক্ত সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে মূত্রথলিতে সামান্য পরিমাণ মূত্র জমলেই মস্তিষ্ক সংকেত পাঠায় যে প্রস্রাব করতে হবে।
স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয়তা মস্তিষ্কের চাপের কারণে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়। এতে মূত্রথলির ‘‘ডিট্রুজর মাসল’ (পেশি) অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের তাড়া তৈরি হয়।
এটি কি শুধুই মানসিক সমস্যা?
“অনেকে ভাবেন, এটি শুধু মানসিক দুর্বলতা। তবে বাস্তবে এটি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া”- বলেন ডা. নয়ন।
দুশ্চিন্তায় শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বদলে যায়, যা মূত্রথলির কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে। ফলে অস্বস্তি বাড়ে এবং ঘন ঘন প্রস্রাবের অনুভূতি তৈরি হয়।
যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়
এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কয়েকটি সহজ উপায় মেনে চললে উপকার পাওয়া যায়-
মেডিটেইশন ও গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস: প্রতিদিন পাঁচ থেকে ১০ মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমে এবং মূত্রথলির সংবেদনশীলতা হ্রাস পায়।
পেলভিক ফ্লোর ব্যায়াম: সেতুবন্ধনাসন (ব্রিজ পোজ) বা ‘কেগেল’ ব্যায়াম নিয়মিত করলে মূত্রথলির পেশি শক্ত হয় এবং নিয়ন্ত্রণ বাড়ে।
পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: উদ্বেগের সময় অতিরিক্ত পানি গ্রহণ না করে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা যেতে পারে।
শরীরচর্চা: নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম মানসিক চাপ কমায় এবং শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
পেশাদার সাহায্য: সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কখন ডাক্তার দেখাবেন
যদি ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ প্রায়ই হয়, পেটে ব্যথা থাকে, রক্ত মিশ্রিত প্রস্রাব হয় বা জীবনযাপনে বড় ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এটি মূত্রথলির অন্য কোনো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
আরও পড়ুন
মূত্রত্যাগের বেগ চেপে রাখার পরিণতি