Published : 06 Jul 2026, 04:40 PM
নড়াইলে এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন হলেও বাজারে দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
তাদের অভিযোগ, উৎপাদন, পরিচর্যা, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে যে ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজারদরে তা ওঠানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের চাষি অসিত বসু বলেন, প্রতি বছরের মত এবারও নিজেদের গাছের কাঁঠাল বিক্রির জন্য হাটে এনেছেন। কিন্তু ক্রেতারা যে দাম বলছেন, তাতে ভ্যানভাড়াও ওঠে না।
“হাটে কাঁঠাল এনে যেন অপরাধ করেছি। এখন আবার ফিরিয়ে নিয়েও বা কী করব? তাতে ভ্যানভাড়া আরও বাড়বে।”
একই উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি কাঁঠালের বাগান কিনেছেন। বাগান পরিচর্যা, শ্রমিক, সার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ব্যয় আরও বেড়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে কাঁঠাল বিক্রি করে সেই খরচও তুলতে পারছেন না।
যশোরের বসুন্দিয়া এলাকার ব্যবসায়ী রহিম মিয়া বলেন, প্রায় ১৩ বছর ধরে তিনি কাঁঠালের ব্যবসা করছেন। নড়াইলের বিভিন্ন গ্রাম ও হাট থেকে কাঁঠাল কিনে অন্য জেলায় বিক্রি করেন।
তিনি বলেন, “এ বছর একটি কাঁঠাল ২০ থেকে ৩০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। বড় কাঁঠালের দামও আগের তুলনায় অনেক কম। কম দামে কিনে আবার কম দামেই বিক্রি করছি। এমন দরপতন আগে দেখিনি।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আরিফুর রহমান বলেন, এ বছর জেলায় ২৪২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৫৫ টন। ফলন ভালো হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সন্তোষ রয়েছে।
বাজারদর কম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মৌসুমে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ কাঁঠাল বাজারে আসায় দামে প্রভাব পড়তে পারে।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মারিয়া রায়হানা বলেন, বর্তমানে কাঁঠাল থেকে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে যশোরে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বাগানমালিক বা ব্যবসায়ীরা কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করতে পারলে পরে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।”