Published : 06 Jul 2026, 06:47 PM
স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছর পেছালেও এরপর রপ্তানির বিভিন্ন গন্তব্য ‘বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে’ পড়তে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, “এটা খুব দিবালোকের মতই পরিষ্কার যে যুক্তরাজ্য অথবা অস্ট্রেলিয়া- এরকম দুয়েকটা দেশে হয়ত আমাদের চাপটা খুব একটা বেশি নাই। কিন্তু অন্যান্য যে কোনো রপ্তানির গন্তব্য, সেই গন্তব্যগুলোতে যে কত বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে যাচ্ছি এটা যেকোনো একটা সাধারণ সচেতন মানুষই আমরা বুঝি।
“এরকম একটা সমূহ বিপদের সম্ভাবনা দৃশ্যমান হওয়ায় এই বর্ধিত সময়কে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর যে কাজ, এই কাজটা করাটাই কিন্তু বড় ব্যাপার।”
সোমবার ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ (র্যাপিড) আয়োজিত ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অ্যান্ড ট্রেড কমপিটিটিভনেস’ শিরোনামের এক কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “এখন পর্যন্ত সরকারের মূল তৎপরতা এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য সময় পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। কিন্তু আমি মনে করি যে, বরঞ্চ আমাদের খুব বেশি মনোযোগ বাড়ানো দরকার যে, এই সময়গুলো আসলে কোথায় কোথায় কাজে লাগাব।”
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের প্রক্রিয়া তিন বছর পেছাতে সরকারের করা আবেদনে জাতিসংঘের সাড়া মেলার তথ্য দিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
গত ২ জুন জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ (সিডিপি) এর ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার কথা তুলে ধরে মন্ত্রণালয় বলেছিল, এলডিসি হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সিডিপি ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করেছে।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু কোভিড মহামারীর কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু পরে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়।
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা থাকার কথা নয়। এতে বিভিন্ন গন্তব্যে রপ্তানিতে ধাক্কা লাগার শঙ্কার কথা তথ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন সোমবারের আলোচনায়।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ এর ১৫৭টি পদক্ষেপের মধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দেশের মানবসম্পদকে কীভাবে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দক্ষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।
“এই বর্ধিত তিন বছরের মধ্যে আমাদের নীতি সংস্কার, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করতে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ বা পথ নকশা তৈরি করতে হবে।”
কর্মশালায় র্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালাও কথা বলেন।