Published : 05 Jul 2026, 04:25 PM
দেশে ‘কার্বন ক্রেডিট’ বাড়ানোর কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বলেন, “কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে কার্বন ক্রেডিট কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।
“কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।”
কার্বন ক্রেডিট অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তার উপ প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, বৈঠকে কার্বন ক্রেডিট, কার্বন ট্রেডিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কর্মকর্তারা জানান, কার্বন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সুযোগ বাড়বে।
পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা হচ্ছে ‘কার্বন ক্রেডিট’। বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের বিপরীতে একটি কার্বন ক্রেডিট দেওয়া হয়।
কার্বন ট্রেডিং হচ্ছে, গ্রিন হাউস গ্যাসের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে একটি বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা। এখানে সরকার বা আন্তর্জাতিক সংস্থা কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কার্বন নিঃসরণের সীমা নির্ধারণ করে। কেউ নির্ধারিত সীমার বেশি কার্বন নিঃসরণ করলে তাকে বাজার থেকে কার্বন ক্রেডিট কিনতে হয়।
যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান বনায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি কিংবা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমায় বা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন শোষণ করে, তারা কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে পারে। এসব ক্রেডিট অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণকারী দেশ বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।