Published : 06 Jul 2026, 07:18 PM
ঢাকার গুলিস্তানে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী পরিচয়ে ‘দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির’ অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ এর দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলে।
‘নগর প্লাজা’ হিসেবে পরিচিত এই মার্কেট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন।
সোমবার দুপুরে এই মার্কেটের নিচ তলায় সংবাদ সম্মেলন ডাকে ‘ফুলবাড়ীয় সুপার মার্কেট-২ এর দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীবৃন্দ’।
সেখানে মো. কামরুজ্জামান বলেন, গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মার্কেট সমিতির তৎকালীন সভাপতি এলাকা ছেড়ে চলে যান।
“এরপর মো. সুমন (আলী হাসান সুমন), আউয়াল, ফারুক ও হানিফ বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী পরিচয়ে সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়।”
তার অভিযোগ, “এরপর থেকে তারা চাঁদাবাজি, অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, দোকান মালিকদের উচ্ছেদ, স্থায়ী দোকানের সামনে ও ফুটপাতে দোকান বসানো, লিফট মেরামতের নামে অর্থ আদায় এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও ওয়াসা বিল আদায়সহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করেছে।”
কামরুজ্জামানের অভিযোগ, “বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৪০ লাখ টাকা, ওয়াসা বিলের ২৮ লাখ টাকা এবং লিফট মেরামতের নামে আদায় করা প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
“অভিযুক্তরা মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন এবং সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন,” বলেন তিনি।
ফুলবাড়ীয়ায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ তুলে রোববার বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত ইসলামীপন্থি ব্যবসায়ীরা।
পুলিশের ভাষ্য, এ মিছিল ঘিরে সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর লোকজনের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আগের দিনের এই ঘটনার বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, তারা শান্তি মিছিলের নামে রিকশায় করে লোকজন এনে হকিস্টিক বিতরণ করেছে।
"আত্মস্বীকৃত দখলদার ও চাঁদাবাজদের পক্ষ নিয়ে গুলিস্তান এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কেন?”
এক প্রশ্নের জবাবে ছিদ্দিক হাওলাদার নামে এক দোকান মালিক বলেন, "ফুলবাড়ীয়া সুপার মার্কেট-২ এ বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের কোনো দখলদারি বা চাঁদাবাজি নেই।"
সংবাদ সম্মেলনে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মামুন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদেরও প্রতিবাদ জানানো হয়।
অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে আলী হাসান সুমন জামায়াতে ইসলামীর রুকন। এছাড়া ফুলবাড়ীয়া মার্কেট কেন্দ্রিক জামায়াতের একটি কমিটি আছে, যেখানে তিনি আছেন আমিরের দায়িত্বে।
চাঁদাবাজি ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা এ সংবাদ সন্মেলনের বিরুদ্ধে আরেকটি সংবাদ সন্মেলন করব৷ সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে৷
“যিনি সংবাদ সন্মেলন (লিখিত বক্তব্য পাঠ করা ব্যক্তি) করেছেন, তিনি পাশের মার্কেটের লোক। এই মার্কেটে তার কী? তিনি তো আওয়ালীগের আওয়াল কমিশনারের লোক। তারা যেসব অভিযোগ করেছে সবই মিথ্যা। আমরা তাদের অপকর্মের সব প্রমাণ নিয়ে সংবাদ সন্মেলন করবো৷ তখন তাদের আসল পরিচয় বেরিয়ে আসবে৷ এতো দিন তো কিছু বলি নাই,এখন আর চুপ থাকার সময় নাই।”
সংবাদ সন্মেলনে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মো. কিবরিয়া সাধীন, মো. কবীর হোসেন, মো. মাহবুবুর রহমান ও মো. কাউসার উপস্থিত ছিলেন।