Published : 06 Jul 2026, 08:04 PM
ঋণখেলাপি হওয়া আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে (এএমএসআরএল) শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক কোম্পানি আইনের ক্ষমতাবলে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এ অনুমতি পাবে কোম্পানিটি।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।
‘ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এএমএসআরএল এর অনুকুলে ১০০% মার্জিন সাপেক্ষে আমদানি ঋণপত্র খোলার অনুমতি প্রদান’ শিরোনামের এ সার্কুলারের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আলাদা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের অনুকূলে কোনো ব্যাংক কর্তৃক শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক (৩) বিধান অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর হবে না।
এর মানে হচ্ছে, যেকোনো ব্যাংক ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম সুগার রিফাইনারি লিমিটেডকে প্রয়োজনীয় পন্য বা কাঁচামাল আমদানির জন্য ১০০% মার্জিনে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে।
তবে শর্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, এই ঋণসুবিধার বিপরীতে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না।
“ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যাংক সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা দাবি করতে পারবে না।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে কোম্পানিটি কাঁচামাল ও প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে। তবে এলসির পুরো মূল্য আগাম জমা রাখতে হবে। ফলে ব্যাংকের ঋণঝুঁকি কার্যত থাকবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫ সালের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আবদুল মোনেম লিমিটেডের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৯৮ কোটি টাকা।
এর মধ্যে শুধু অগ্রণী ব্যাংকের পাওনাই প্রায় ৪৫৫ কোটি টাকা।
এর আগে, গত বছরের অগাস্টে আবদুল মোনেম গ্রুপ খেলাপি ঋণ বিশেষ শর্তে পুনর্গঠনের আবেদন করে।
পরে চলতি বছরের ৭ জুন শতভাগ মার্জিনে এলসি খোলার বিশেষ সুবিধা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে আবেদন করে কোম্পানিটি।