Published : 18 Mar 2025, 12:57 PM
বাসা, বাড়ি, রেস্তোরাঁ আর খাবার বিতরণের জন্য প্লাস্টিকের কন্টেইনার বা পাত্র ব্যবহার খুব পরিচিত দৃশ্য।
তবে মাইক্রোওয়েভে এই প্লাস্টিকের বাটি বা পাত্র ব্যবহারের মাধ্যমে খাবার গরম করা নিয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে ।
প্লাস্টিক গরম হলে এর মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে, প্লাস্টিক কন্টেইনারগুলোর মধ্যে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা গরম করার সময় খাবারে মিশে, সেখান থেকে শরীরে প্রবাহিত হয়ে নানান ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এলিজাবেথ হ্যারিস নিউট্রিশন অ্যান্ড ওয়েলনেস’য়ের প্রধান এবং পুষ্টিবিদ এলিজাবেথ হ্যারিস বলেন, “প্লাস্টিক কন্টেইনারে কিছু রাসায়নিক যেমন ‘বিসফেনল এ’ (বিপিএ) থাকে, যা মাইক্রোওয়েভে গরম করার সময় খাবারের সাথে মিশে যেতে পারে। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবাহিত হয়ে হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যার সৃষ্টি করে।”
গবেষণা যা বলছে
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপিএ একটি ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান, যা মানুষের শরীরে জমা হয়ে নানান রোগের কারণ হতে পারে।
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত কলাম্বিয়া’র ‘ইউনিভার্সিটি অফ মিজোরি’র করা এক গবেষণায় জানানো হয়, কালো প্লাস্টিক কন্টেইনার গৃহস্থালীর ব্যবহারের জন্য বেশি ক্ষতিকর। কারণ এতে বিভিন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে।
পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকগুলো বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা, এক নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। যা অনেক সময় রান্নাঘরের প্লাস্টিকের বোর্ড বা কন্টেইনার থেকেই সৃষ্টি হতে পারে।
মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করার ক্ষেত্রে অনেকেই প্লাস্টিকের পাত্র বা বাক্স ব্যবহার করেন। তবে এসবে খাবার গরম করা হলে সেগুলোর মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান খাদ্যে মিশে যায়।
দরকার পরীক্ষা
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) জানিয়েছে, ‘মাইক্রোওয়েভে ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পাত্র বা বাক্সগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে গরম করার সময় গলে না এবং কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক খাবারে মিশে না যায়।’
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বাক্স বা পাত্র সঠিকভাবে পরীক্ষা করা দরকার। আর শুধুমাত্র সেই পাত্রগুলোই মাইক্রোওয়েভে ব্যবহার করা উচিত, যেগুলো ‘মাইক্রোওয়েভ-সেইফ’ লেবেলযুক্ত।
এছাড়া, বাংলাদেশের পরিবেশে কিছু কন্টেইনার বা প্লাস্টিক সামগ্রী মাইক্রোওয়েভে ব্যবহারের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, মার্জারিনের টিন বা দইয়ের পাত্রগুলো মাইক্রোওয়েভে গরম করলে রাসায়নিক উপাদান যুক্ত হতে পারে। তাই এই ধরনের কন্টেইনার ব্যবহার করা উচিত নয়।
মনে রাখতে হবে, ‘মাইক্রোওয়েভ সেইফ’ লেখা যেসব প্লাস্টিক পাত্র বা বাক্স থাকে, তা সাধারণত নিরাপদ। তবে সব প্লাস্টিকের পাত্র বা বাক্সের গুণগত মান এক নয়। এতে বিভিন্ন পরিবর্তন হতে পারে।
কাচ বা সিরামিক
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপিএ বা অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক সংযুক্ত প্লাস্টিকের সামগ্রীর বদলে, মাইক্রোওয়েভে গরম করার জন্য কাচ বা কাচের সিরামিক পাত্র ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর ইউএসডিএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী, কাচ বা কাচ-সিরামিক বা এমন কিছু উপাদান যা মাইক্রোওয়েভে গরম করার জন্য উপযোগী, তা ব্যবহার একেবারেই নিরাপদ।
পাশাপাশি, কিছু একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট, মোমের স্তর দেওয়া পেপার প্লেট এবং কিছু ‘মাইক্রোওয়েভ সেইফ প্লাস্টিক’ও নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায়।
কাচ ও স্টেইনলেস স্টিলের মিশ্রণের সামগ্রী
এখন অনেক প্রতিষ্ঠান মাইক্রোওয়েভে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের বাসন-পত্র তৈরি করে থাকে। মাইক্রোওয়েভে ব্যবহারযোগ্য কাচ ও স্টেইনলেস স্টিলের মিশ্রণে বিশেষ পাত্র বাজারে পাওয়া যায়; যা খাবার গরম করার জন্য নিরাপদ এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্যও উপযোগী।
প্লাস্টিকের সামগ্রী ব্যবহার সহজলভ্য। এ কারণে যত্রতত্র ব্যবহার না করে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা হিসেবে প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিহার করতে পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন
প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর উপায়