Published : 29 Dec 2025, 03:41 PM
ওজন কমাতে দৌড়ানোর পরামর্শ তো সবাই দেন। তবে জোরে নাকি আস্তে দৌড়ান— কোনটি বেশি কার্যকর?
প্রচলিত ধারণা জোরে দৌড়ানোকে প্রাধান্য দিলেও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্ট চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়নের মতে, “আস্তে দৌড়ানোই ওজন কমাতে বেশি সহায়ক। কারণ এতে ক্লান্তি কম হয়, যে কারণে দীর্ঘ সময় ও লম্বা দূরত্ব অতিক্রম করা যায়। ফলস্বরূপ বেশি ক্যালরি ক্ষয় হয়।”
জোরে দৌড়ালে শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত বেড়ে যায়, হাঁপিয়ে ওঠা স্বাভাবিক। তবে আস্তে দৌড়ালে এমন হয় না।
এই ছন্দে দৌড়াতে দৌড়াতে কথা বলাও সম্ভব। অনেকক্ষণ ধরে চালিয়ে যাওয়া যায় ক্লান্তি ছাড়াই। এতে আঘাতের ঝুঁকি কম থাকে এবং যেকোনো বয়সের মানুষের জন্য উপযোগী।
শরীরচর্চায় নতুনদের জন্য এটি আদর্শ শুরু। গতির চেয়ে সহনশীলতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কম প্রচেষ্টায় আনন্দের সঙ্গে দূরত্ব অতিক্রম করাই মূল লক্ষ্য।
জগিংয়ের সঙ্গে আস্তে দৌড়ের পার্থক্য স্পষ্ট।
জগিং মানে অপেক্ষাকৃত জোরে ও কসরতসাধ্য দৌড়। আস্তে দৌড়ানো হল নির্দিষ্ট ছন্দে ধীরগতির চলা, যাতে হাঁপ ধরে না।
আস্তে দৌড়ানোর উপকারিতা বহুমুখী। এতে শারীরিক সহিষ্ণুতা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়ে। ধীরে ধীরে দ্রুত দৌড়ানোর সক্ষমতা গড়ে ওঠে। হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয়, যা সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাবশ্যক।
‘জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল মেডিসিন’য়ে প্রকশিত গবেষণায় দেখা গেছে, লম্বা দূরত্বে আস্তে দৌড়ানো কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া সৃষ্টির মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়।

আঘাতের ঝুঁকিও কম। ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব স্পোর্টস মেডিসিন’য়ে প্রকাশিত সাম্প্রতিক গবেষণায় উল্লেখ আছে, উচ্চ তীব্রতার দৌড়ে আঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়। আস্তে দৌড়ালে অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে, মচকানোর ঝুঁকি হ্রাস পায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটি চর্বি পোড়ায়। আস্তে দৌড়ালে ‘ফ্যাট বার্নিং জোন’য়ে দীর্ঘ সময় থাকা যায়, যা ওজন হ্রাসে সহায়তা করে।
‘ফ্রি হ্যান্ড’ ব্যায়ামের সঙ্গে মিলিয়ে করলে ফল আরও দ্রুত। তবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অপরিহার্য।
ম্যারাথন বা হাইকিং প্রেমীদের পারফরম্যান্স বাড়াতেও এটি কার্যকর। নিয়মিত অভ্যাসে দীর্ঘমেয়াদি ‘ফিটনেস’ ধরে রাখা সহজ হয়।
ডা. নয়নের পরামর্শ, “আস্তে দৌড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। ধৈর্য ও নিয়মিততা দিয়ে ওজন কমানো এবং সুস্থ থাকা সম্ভব। শরীরের সংকেত শুনে গতি নির্ধারণ করুন।”
আরও পড়ুন
প্রতিবেলার খাবারের পর যে কারণে হাঁটা উচিত