০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমানোর পন্থা

সাশ্রয়ী ব্যবহারের কৌশলে অপচয় রোধ করা যায় সহজে।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jan 2026, 12:39 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

রান্নাঘরের দৈনন্দিন খরচের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে সিলিন্ডার গ্যাস।

পাইপলাইনের বাইরে থাকা অনেক পরিবারই গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল। তবে রান্নার এই জ্বালানির বাড়তি দাম চিন্তায় ফেলেছে অনেক পরিবারকেই।

তাই সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে বাড়তি মাসিক খরচ কমানো যেমন সম্ভব, পাশাপাশি নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা যায়।

রান্নার আগে পরিকল্পনার গুরুত্ব

গ্যাস সাশ্রয়ের প্রথম ধাপ শুরু হয় রান্নার আগেই। কী রান্না করবেন, কত সময় লাগবে— এই পরিকল্পনা থাকলে চুলা অকারণে জ্বালিয়ে রাখার প্রবণতা কমে বলে মনে করেন, সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের গৃহায়ণ ও গৃহব্যবস্থাপনা বিষয়ের অধ্যাপক রিনাত ফৌজিয়া।

“সব উপকরণ ধুয়ে, কেটে, মাপমতো প্রস্তুত করে রাখলে চুলা জ্বালানোর সময় কম লাগে। একাধিক রান্না একসঙ্গে করলে বারবার চুলা জ্বালানো–নেভানোর প্রয়োজন পড়ে না, এতে গ্যাস কম খরচ হয়” বলেন তিনি।

সঠিক চুলা ও বার্নার ব্যবহার

চুলা ও বার্নারের মান গ্যাস ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পুরানো বা নষ্ট বার্নার গ্যাস বেশি খরচ করে এবং আগুন সমানভাবে ছড়ায় না।

গ্যাসের চুলা মেরামত কর্মী হৃদয় হোসেন বলেন, “কিছু দিন পরপর বার্নারের ছিদ্র পরিষ্কার রাখা জরুরি, কারণ ময়লা জমলে আগুন হলুদ হয়ে যায় এবং গ্যাস অপচয় হয়। আগুন সবসময় নীল থাকলে বুঝতে হবে গ্যাস সঠিকভাবে জ্বলছে।”

হাঁড়ি–পাতিলের আকার ও উপাদান

হাঁড়ি বা পাতিলের আকার চুলার আগুনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার বলেও মনে করেন, রিনাত ফৌজিয়া।

খুব ছোট পাত্রে বড় আগুন দিলে গ্যাস অপচয় হয়, আবার বড় পাত্রে ছোট আগুন দিলে রান্না হতে বেশি সময় লাগে।

ভারী তলার হাঁড়ি তাপ ধরে রাখে, ফলে কম আগুনেও রান্না ভালো হয়। ঢাকনা ব্যবহার করলে ভেতরের তাপ বের হয় না, রান্নার সময়ও কমে।

রান্নার সময় আগুন নিয়ন্ত্রণ

অনেকেই মনে করেন বেশি আগুনে রান্না তাড়াতাড়ি হয়। বাস্তবে মাঝারি আগুনে রান্না করলেই খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না হয় এবং গ্যাসও কম লাগে।

খাবার ফুটে উঠলে আগুন কমিয়ে দেওয়ার অভ্যাস গ্যাস সাশ্রয়ে ভালো কাজ করে।

কিছু খাবারের ক্ষেত্রে রান্নার শেষের দিকে চুলা বন্ধ করে ঢাকনা দিয়ে রাখলে নিজস্ব তাপেই রান্না সম্পন্ন হয়।

নিয়মিত লিকেজ পরীক্ষা

গ্যাস লিকেজ হলে শুধু গ্যাস নষ্ট-ই হয় না, বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে।

নিয়মিত রাবার পাইপ, রেগুলেটর ও সংযোগস্থল সাবান পানি দিয়ে পরীক্ষা করা উচিত বলে জানান হৃদয় হোসেন।

তিনি বলেন, “কোথাও বুদবুদ উঠলে বুঝতে হবে লিক থাকতে পারে।”

এই সমস্যা দ্রুত ঠিক না করলে প্রতিদিনই কয়েকগুণ বেশি গ্যাস নষ্ট হয়ে যায়।

সিলিন্ডার সঠিকভাবে রাখা

সিলিন্ডার সবসময় খোলা জায়গায়, সোজা করে রাখতে হবে। রান্নার চুলার খুব কাছে বা অতিরিক্ত গরম জায়গায় রাখলে চাপ বাড়ে এবং গ্যাস দ্রুত বের হতে পারে।

ব্যবহারের পর রেগুলেটর বন্ধ রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে অপ্রয়োজনীয় গ্যাস অপচয় রোধ করা যায়।

বিকল্প পদ্ধতির কথা ভাবা

যেসব রান্নায় বেশি সময় লাগে, যেমন- ডাল সেদ্ধ বা মাংস নরম করা, সেখানে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে গ্যাস অনেক কম লাগে।

বিদ্যুৎ বা অন্য জ্বালানিনির্ভর সহায়ক যন্ত্র থাকলে সেগুলোর সমন্বিত ব্যবহারও গ্যাস সাশ্রয়ে সহায়তা করে, বলে মনে করেন রিনাত ফৌজিয়া।

আরও পড়ুন

পরিষ্কারের ভুলে সময়ের অপচয়

যেসব ভিটামিন খাওয়ার মানে অর্থের অপচয়

সার্বিক সুস্থতায় হাল আমলের জিনিস কেনা অপচয়

গাড়ির জ্বালানি তেলের খরচ সাশ্রয় করার পন্থা