Published : 04 Jun 2026, 04:03 PM
গ্রীষ্মের তীব্র গরম শুধু অস্বস্তিই বাড়ায় না, অনেকের জন্য এটি হয়ে ওঠে অতিরিক্ত ক্লান্তি, অবসাদ এবং কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণ।
দিনের শুরুতে নিজেকে সতেজ মনে হলেও দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীর ভারী, মাথা ঝিমঝিম করা, মনোযোগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বারবার বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করতে পারে।
আর এসবই গরমজনিত ক্লান্তি সাধারণ বিষয়।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুল হাসান ব্যাখ্যা করেন, “অতিরিক্ত তাপের কারণে শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। ফলে শক্তির চাহিদা বাড়ে এবং দ্রুত ক্লান্তি অনুভূত হয়।”
তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়তে পারলে, তীব্র গরমের এই ক্লান্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান
“গরমের সময় ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। এই হারানো তরল যথাসময়ে পূরণ না হলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ”, বলেন ডা. কামরুল হাসান।
তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো। বাইরে বের হলে সঙ্গে পানির বোতল রাখা উচিত।
শুধু পানি নয়, ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা ঘরে তৈরি ফলের পানীয় শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
খাবারে হালকা ও পুষ্টিকর উপাদান
গরমে ভারী ও তেলযুক্ত খাবার হজম করতে শরীরকে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে খাবারের পর অলসতা ও ক্লান্তি বাড়তে পারে।
খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল, শাকসবজি, সালাদ, দই এবং পর্যাপ্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা উচিত।
তরমুজ, নাসপাতি, শসা ও আনারসের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল শরীরকে আর্দ্র রাখতে অনেকটাই সাহায্য করে।
রোদ এড়িয়ে চলা
দুপুরের তীব্র রোদে দীর্ঘ সময় থাকলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। এতে ক্লান্তি, মাথাব্যথা এমনকি ‘হিট এক্সজশচান’ ঝুঁকিও বাড়ে, জানান এই চিকিৎসক।
তাই প্রয়োজন ছাড়া সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে না যাওয়াই ভালো। আর বাইরে যেতে হলে ছাতা, টুপি বা সানগ্লাস ব্যবহার এবং হালকা রংয়ের পোশাক বেছে নেওয়ার পরামর্শও দেন, ডা. কামরুল।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত
গরমের কারণে অনেকের ঘুমের মান কমে যায়। রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে, দিনের বেলা ক্লান্তি বেশি অনুভূত হয়।
ঘুমানোর ঘর যতটা সম্ভব ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করতে হবে। ঘুমানোর আগে ভারী খাবার ও অতিরিক্ত ক্যাফিন এড়িয়ে চললে ভালো ঘুম হতে পারে।
শরীরচর্চার সময় পরিবর্তন
নিয়মিত শরীরচর্চা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হলেও তীব্র গরমে দুপুরে ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে।
সকালে বা সন্ধ্যায় তুলনামূলক ঠান্ডা সময়ে হাঁটা, দৌড়ানো বা ব্যায়াম করা ভালো। শরীরচর্চার আগে ও পরে পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
ক্যাফিন ও চিনিযুক্ত পানীয় কম
অনেকেই ক্লান্তি দূর করতে বারবার চা, কফি বা কোমল পানীয় পান করেন। সাময়িকভাবে এগুলো শক্তি দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরে পানিশূন্যতা বাড়াতে পারে।
এর পরিবর্তে পানি, ভেষজ পানীয় বা প্রাকৃতিক ফলের রস বেছে নেওয়া ভালো।
কাজের ফাঁকে বিশ্রাম
একটানা কাজ করলে গরমের ক্লান্তি আরও তীব্র মনে হতে পারে। বিশেষ করে বাইরে কাজ করতে হলে, নির্দিষ্ট বিরতিতে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন।
কয়েক মিনিটের বিরতিও শরীর ও মনকে সতেজ করতে সাহায্য করে।
ক্লান্তির লক্ষণকে অবহেলা নয়
অতিরিক্ত দুর্বল লাগা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া বা ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে চলে যাওয়া এবং পানি পান করার পরামর্শ দেন, ডা. হাসান।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শও নিতে হবে।
আরও পড়ুন