যে কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের তৈরি নিয়ম মানা উচিত
সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার জন্য ক্লান্তি কাজ করে? তবে নিজেই তৈরি করে নিন কয়েকটা নিয়ম।
সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত, অসংখ্যবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢুঁ দেওয়া হয়।
কারও কাছে এটি যোগাযোগের জায়গা, কারও কাছে তথ্যের উৎস, আবার অনেকের জন্য বিনোদনের মাধ্যম।
তবে এই নিরবচ্ছিন্ন সংযুক্তি কখনও কখনও মানসিক ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং অস্থিরতার কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষ করে পেশাগত কারণে দীর্ঘ সময় অনলাইনে থাকতে হলে এই চ্যালেঞ্জ আরও বড়।
নোটিফিকেইশনের অবিরাম টান
দিনের বড় একটি অংশ কেটে যায় ফোনে আসা নোটিফিকেশন দেখতে দেখতে। একটি বার্তা, একটি মন্তব্য বা নতুন কোনো পোস্টের খবর মুহূর্তেই মনোযোগ সরিয়ে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষজ্ঞ কেন্ড্রা সির্ডাল বলেন, “এই নোটিফিকেশনগুলো মূলত মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্যই তৈরি করা হয়।”
রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এমন অবস্থায় নোটিফিকেইশন বন্ধ রাখা যায়। প্রয়োজন হলে ব্যবহারকারী নিজেই নির্দিষ্ট মাধ্যমে গিয়ে তথ্য দেখতে পারবেন। এতে অকারণ বিভ্রান্তি কমে এবং বারবার ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতাও হ্রাস পায়।”
নিজের জন্য সাজানো অনলাইন পরিবেশ
বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করার ক্ষেত্রে যেমন নিজস্ব সীমারেখা মেনে চলতে হয়, তেমনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একই বিষয় প্রযোজ্য।
সির্ডাল বলেন, “নিজের অনুসরণ করা পেইজগুলোকে এমনভাবে নির্বাচন করা উচিত যেন সেগুলো উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। সেখানে থাকবে হাসির জায়গা, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, সৃজনশীলতা এবং ইতিবাচক যোগাযোগ। এমন পরিবেশ তৈরি হলে অনলাইনে কাটানো সময় অর্থবহ হয়ে ওঠে।”
আনন্দ, কৌতূহল ও সংযোগ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাদের অনুসরণ করা উচিত এই প্রশ্ন অনেকেরই থাকে।
মার্কিন এই বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এমন পেইজ বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করা ভালো, যারা অন্তত তিনটি অনুভূতির একটি তৈরি করে।
প্রথমটি আনন্দ: এমন কনটেন্ট যা মানুষকে হাসায়, ভালো অনুভব করায় বা মন ভালো করে দেয়।
দ্বিতীয়টি কৌতূহল: মানে এমন তথ্য বা অভিজ্ঞতা, যা নতুন কিছু জানার আগ্রহ সৃষ্টি করে।
তৃতীয়টি সংযোগ: এমন মানুষ বা গোষ্ঠী, যাদের মাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
এই তিন ধরনের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সবসময় সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রয়োজন নেই
অনলাইনে কোনো ব্যক্তি বা কনটেন্ট বিরক্তিকর মনে হলে, অনেকে তাকে সম্পূর্ণভাবে ব্লক করে দেন।
তবে সির্ডাল মনে করেন, “অনেক ক্ষেত্রে সাময়িক দূরত্বই যথেষ্ট। কোনো কিছু যদি মানসিক চাপ তৈরি করে, তাহলে সেটিকে কিছু সময়ের জন্য নীরব করে রাখা যেতে পারে। এতে একদিকে নিজের মানসিক স্বস্তি বজায় থাকে, অন্যদিকে সম্পর্কও পুরোপুরি নষ্ট হয় না। প্রয়োজন হলে পরে আবার সেই সংযোগে ফেরা সম্ভব।”
গোপন পর্যবেক্ষণের অভ্যাস
অনেকেই আলাদা বা বিকল্প ‘অ্যাকাউন্ট’ ব্যবহার করে অন্যদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করেন। এটি আধুনিক ডিজিটাল সংস্কৃতির পরিচিত বাস্তবতা।
এ ধরনের অভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা জরুরি। কারণ অতিরিক্ত কৌতূহল বা অন্যের জীবনের প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ অনেক সময় নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আলোচনার কেন্দ্রে এলে কী করবেন?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো পোস্ট হঠাৎ ভাইরাল হয়ে গেলে বা কোনো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলে মানসিক চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এমন পরিস্থিতিতে এই মার্কিন বিশেষজ্ঞ একটি সহজ নিয়ম অনুসরণ করেন।
প্রথম একদিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা, প্রতিক্রিয়া দেওয়া বা আলোচনা অনুসরণ করা যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সরে আসা প্রয়োজন।
কারণ অনলাইন জগতে আলোচনার বিষয় খুব দ্রুত বদলে যায়। কোনো একটি ঘটনার সঙ্গে দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে তা মানসিক ক্লান্তি বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন
