Published : 02 Mar 2026, 03:18 PM
কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে গড়ে ওঠা নান্দনিক রিসোর্ট আর সবুজ-ধূসর প্রকৃতির মায়া— এই সময়ে রাঙামাটি দিচ্ছে এক ভিন্ন শান্তির আবেদন।
সেন্টমার্টিন ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি বলেন, “এখন রাঙামাটির প্রকৃতি কিছুটা রুক্ষ। তবে এই ধূসর-সবুজ রূপই অনেক ভ্রমণপিপাসুর কাছে শান্তিময় লাগছে। রিসোর্টগুলোতে পর্যটক বরণের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে।”
রাঙামাটিতে এখন শুধু হোটেল নয়— থাকার জন্য গড়ে উঠেছে অসংখ্য রিসোর্ট। এগুলোতে রয়েছে ছুটি কাটানোর চমৎকার আয়োজন। ঈদের ছুটিতে রিসোর্টে থেকে হ্রদের ধারে সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দেখা, কায়াকিং করা বা শুধু নিরিবিলিতে বসে প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলা—এ সবই এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ।
পর্যটন মোটেল: ঝুলন্ত সেতুর পাশে নিরিবিলি আশ্রয়
রাঙামাটি শহরের প্রাচীনতম থাকার জায়গা পর্যটন মোটেল। ঝুলন্ত সেতুর পাশে অবস্থিত এই মোটেলে একদম নিরিবিলি পরিবেশে প্রকৃতির কোলে রাত কাটানোর সুব্যবস্থা রয়েছে।
হ্রদের দৃশ্য দেখতে দেখতে চা খাওয়া বা সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটি—এখানে এসবই সহজলভ্য।

আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক: রিসোর্ট পর্যটনের নতুন হাব
রাঙামাটি-আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কটি এখন দেশের অন্যতম সুন্দর ড্রাইভওয়ে। সড়ক ও নৌ— দুই পথেই এখানে যাওয়া যায়। এই সড়কের পাশে একে একে গড়ে উঠেছে অনেক রিসোর্ট।
রাঙা দ্বীপ: ৩৬০ ডিগ্রি হ্রদ-পাহাড়ের দৃশ্য
ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা রাঙা দ্বীপ রিসোর্ট এখন বেশ পরিচিত। বিচ্ছিন্ন দ্বীপে অবস্থিত এই রিসোর্ট থেকে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে কাপ্তাই হ্রদ আর পাহাড়ের দিগন্তজোড়া দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সূর্যাস্তের সময় এখানকার দৃশ্য অপূর্ব।
বার্গী লেক ভ্যালি: হ্রদ আর নদীর মোহনায় শান্তি
কাপ্তাই লেক ও কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত বার্গী লেক ভ্যালি। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ। রুমে শুয়ে হ্রদের দৃশ্য দেখা যায়। কোনো যানবাহনের শব্দ নেই। শুধু প্রকৃতির কলধ্বনি।
বড়গাং, রেং ও ইজোর: সূর্যাস্তের অনন্য আয়োজন
পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এই রিসোর্টগুলোতে সূর্যাস্ত দেখার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। হ্রদের জলে সূর্যের শেষ আলো পড়লে পুরো দৃশ্য যেন সোনালি হয়ে ওঠে।

রান্যা টুগুন: প্রাকৃতিক বনে প্রথম রিসোর্ট
প্রাকৃতিক বনে গড়ে ওঠা প্রথম রিসোর্ট রান্যা টুগুন। এখানে কায়াকিং, মাছ ধরা আর পাখির কলকাকলি উপভোগ করা যায়। বনমোরগের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। প্রকৃতির সঙ্গে একেবারে কাছাকাছি থাকার অভিজ্ঞতা এখানে পাবেন।
জুমকিং ও গাড়পাড়: হ্রদ-নদীর মোহনায় ইকো রিসোর্ট
হ্রদ ও নদীর মোহনায় অবস্থিত এই দুটি ইকো রিসোর্ট পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। নিরিবিলি পরিবেশে থাকার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
রাঙামাটির প্রধান দর্শনীয় স্থান
রাঙামাটিতে দর্শনীয় স্থানের অভাব নেই। সাজেক ভ্যালি, কাপ্তাই লেক, ঝুলন্ত ব্রিজ, শুভলং ঝরনা, রাজবন বিহার, চাকমা রাজার রাজবাড়ি, পলওয়েল পার্ক ও ডিসি বাংলো— এসব জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন।
গাইড নিয়ে বা নিজের মতো করে ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে। পুরো রাঙামাটিই যেন একটি দর্শনীয় স্থান।

যাতায়াত
রাঙামাটি যেতে হলে চট্টগ্রাম হয়ে যেতে হয়। চট্টগ্রামের অক্সিজেন মোড় থেকে রাঙামাটি পাহাড়িকা বাসে ভাড়া ১৪০ টাকা। ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে নন-এসি ৮শ থেকে ৯শ টাকা, এসি দেড় হাজার থেকে ১৮শ’ টাকা।
আকাশপথে ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানভাড়া সাড়ে তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। বিমানবন্দর থেকে রাঙামাটি মাইক্রোবাসে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
বুকিং ও প্রস্তুতি
ঈদের ছুটিতে ভিড় বেশি থাকে। তাই আগে বুকিং দিন। সরকারি মোটেল বা বেসরকারি রিসোর্টের ফেইসবুক পেইজ বা হটলাইনে অগ্রিম বুকিং করুন।
রাঙামাটির রিসোর্টে থেকে হ্রদ-পাহাড়ের সঙ্গে কাটানো ছুটি হবে সত্যিই অবিস্মরণীয়।
আরও পড়ুন
ঢাকার কাছাকাছি যেসব রিসোর্টে একদিনে বেড়ানো যায়