Published : 05 Feb 2026, 03:49 PM
এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ২০ মার্চ। আর ঈদে অনেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে সেরে ফেলেছেন, আবার কেউ কেউ এখনও করছেন।
সেন্টমার্টিন ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি বলেন, “শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা করলে খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি বাড়ে ভোগান্তি। তাই এখনই প্রস্তুতি শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।”
ঈদের ছুটিতে স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঠিক করে নেওয়া জরুরি বলেন মনে করেন তিনি।
প্রথমত: দেশ না বিদেশ— এই সিদ্ধান্ত নিন। দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্চের শেষ দিকে চৈত্রের শুরুতে গরম পড়তে শুরু করে। তাই তুলনামূলক স্বস্তির জন্য সিলেট অঞ্চল, উত্তরাঞ্চল বা পাহাড়ি এলাকা বেছে নেওয়া যেতে পারে।
বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আগেই জেনে নিন সংশ্লিষ্ট দেশে আগাম ভিসা লাগে কি-না। লাগলে ভিসা পেতে কত সময় লাগে তা বিবেচনায় রাখুন।
পরিবার, বন্ধু নাকি একা ভ্রমণ করবেন— এটিও গন্তব্য নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত: বাজেট নির্ধারণ করুন। ঈদের কেনাকাটায় ভ্রমণের বাজেট অনেক সময় কমে আসে। তাই শুরুতেই মোট বাজেট ঠিক করে নিন। যাতায়াতের খরচ— বিমান, বাস না ট্রেন— হিসাব করুন।
থাকার খরচ, খাবার, ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটাসহ জরুরি ব্যয়ও মাথায় রাখুন। ঈদের সময় দেশে সবকিছুর দাম বাড়ে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ ধরে রাখাই নিরাপদ।
তৃতীয়ত: যাতায়াত ও হোটেলের ব্যবস্থা আগে থেকে করুন। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে কয়েক মাস আগে পরিকল্পনা করলে বিমানের টিকিট, হোটেলভাড়া ও অ্যাডভেঞ্চার কার্যক্রম কম দামে পাওয়া যায়।
ঈদের সময় চাহিদা বাড়ায় দামও বাড়ে। দেশে পাহাড়, সমুদ্র বা সমতল— সব জায়গাতেই পর্যটকের ভিড় থাকে। তাই হোটেল বা রিসোর্ট আগে থেকে বুক করা জরুরি।
রোজায় অনেক রিসোর্ট বিশেষ ছাড় ঘোষণা করে। যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ঈদের টিকিট ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস বা ট্রেনের টিকিট কেটে নেওয়া ভালো।
চতুর্থত: বিদেশে গেলে ভিসার প্রস্তুতি নিন। নেপাল, ভুটান বা মালদ্বীপে আগাম ভিসার প্রয়োজন হয় না। শ্রীলঙ্কার জন্য ইটিএ (ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন) বাধ্যতামূলক হলেও দু-তিন দিন আগে আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যায়।
থাইল্যান্ডের ভিসাতেও জটিলতা কমেছে। তাই গন্তব্য ঠিক করার সঙ্গে সঙ্গে ভিসা নীতিমালা জেনে নিন।
মার্চের আগে ভিসা পেতে চাইলে এখনই আবেদন করুন। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকতে হবে।
বিমানের টিকিট, হোটেল বুকিং ও প্রয়োজনীয় নথির সফট কপি সংরক্ষণে রাখুন।
পঞ্চমত: বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন। ঈদের ভ্রমণে ভিড় একটি বড় বাস্তবতা। ঈদের মূল ছুটির শুরু হওয়ার এক-দুই দিন আগে বা পরে যাত্রা করলে চাপ কিছুটা কমে।
ঈদের দিন যাত্রার বদলে গন্তব্যে থাকাই স্বস্তিকর। ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রেও ছুটি শেষের একদিন আগে রওনা দিলে ভোগান্তি কম হয়।
আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা বুকিং বাতিল হলে বিকল্প ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পরিবার নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি রাখুন।
ঈদের ছুটি স্বস্তিদায়ক ও স্মরণীয় করতে এখনই পরিকল্পনা শুরু করুন। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিলে খরচ কমবে এবং ভ্রমণের আনন্দ বাড়বে।
আরও পড়ুন
বিয়ের প্রস্তুতিতে ত্বকের পরিচর্যা