০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লাইট বাতিল হলে যেভাবে সামলাবেন

যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে ততই বিপদ থেকে উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়বে।

ফ্লাইট বাতিল হলে যেভাবে সামলাবেন
ছবি: রয়টার্স।

লাইফস্টাইল ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2025, 05:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:11 PM

ভ্রমণে বেরিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু না চললে মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি শেষে যখন হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়, তখন মনে হয় সব নিয়ন্ত্রণ যেন হাতছাড়া হয়ে গেল।

তবে ফ্লাইট বাতিল হলেও কিছু সুচতুর পদক্ষেপে পরিস্থিতি অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

ফ্লাইট বাতিল হলে দ্রুত করণীয়

মার্কিন ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ ক্যাটি নাস্ট্রো রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “ফ্লাইট বাতিল হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা।“

কারণ যত দ্রুত হবেন, তত তাড়াতাড়ি পরবর্তী ফ্লাইটে আসনের সুযোগ পাওয়া যায়।

বিমান সংস্থাগুলোর নিজস্ব অ্যাপে সাধারণত বিকল্প ফ্লাইটের তালিকা দেওয়া থাকে। আর যদি বিমানবন্দরেই অবস্থান করেন, সার্ভিস ডেস্কের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়ই অ্যাপ দেখে নিজের জন্য পছন্দমতো কোনো বিকল্প আছে কি-না যাচাই করে নেওয়া ভালো।

অ্যাপের বিকল্পগুলো পছন্দ না হলে লাইনে দাঁড়িয়েই সরাসরি ফোনে বিমান সংস্থার সঙ্গে কথা বলতে হবে।

ফোনে থাকা কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে আসন খালি আছে কি-না দেখতে পারেন, এমনকি কিছু বিমান সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি থাকায় প্রয়োজনে তারা অন্য সংস্থার ফ্লাইটেও যাত্রীকে স্থানান্তর করতে পারে।

তবে সব সময় পছন্দের বিকল্প পাওয়া সম্ভব নয়। বড় কোনো সমস্যা হলে আসনসংখ্যা সীমিত থাকে।

যদি কোনো বিকল্পই পছন্দ না হয়, তাহলে সম্পূর্ণ অর্থই ফেরত চাইতে পারেন।

এরপর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য বিমান সংস্থার টিকিট কিনতে পারেন।

তবে এক্ষেত্রে একই দিনের টিকিট কিনতে গেলে সাধারণত ভাড়া অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাই সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ফ্লাইট বাতিল এড়াতে আগেভাগে করণীয়

ভ্রমণ ওয়েবসাইট ‘দ্য পয়েন্টস গাই’-এর প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান কেলি মনে করেন, “ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি এড়াতে হলে আগে থেকেই প্রোঅ্যাকটিভ বা ঘটনা ঘটার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া বা ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু নিজের শহর বা গন্তব্য শহরের আবহাওয়া নয়, যেই শহর থেকে বিমানটি উড়াল দেবে সেই শহরের আবহাওয়ার দিকেও নজর রাখা জরুরি।”

ভোরের ফ্লাইট সাধারণত সময়মতো পৌঁছে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হলেও ভোরের ফ্লাইট বেছে নেওয়া হলে সময় বাঁচে, ঝামেলাও কম হয়।

আবার প্রতিটি ভ্রমণের আগেই নিজের বিমানের পূর্ববর্তী অবস্থান কোথায়, তা জেনে নেওয়া উচিত। এর জন্য ফ্লাইট ট্র্যাক করার বিনামূল্যের অনেক অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।

বিমানের অবস্থান আগে থেকেই জানা থাকলে আবহাওয়াজনিত জটিলতার সম্ভাবনাও আগে থেকে অনুমান করা যায়, যা ফ্লাইট বদলের মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক।

ফ্লাইট বাতিলের মুহূর্তে মানসিক প্রস্তুতি

ফ্লাইট বাতিল হলে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। তবে বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি সামলানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তাড়াহুড়া বা আবেগে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতি হতে পারে। অপেক্ষা করার সময় অ্যাপের বিকল্পগুলো দেখা, ফোনে কথা বলা, একাধিক বিকল্প তুলনা করা এসবই নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছেই ফিরিয়ে আনে।

আরও পড়ুন

ভ্রমণ কমায় বয়সের ছাপ, রাখে সুস্থ: বলছে গবেষণা

ভ্রমণের উদ্বেগ কাটানোর পন্থা

বিমানে ঝাঁকুনির আতঙ্ক সামলানোর পন্থা