Published : 04 Mar 2026, 06:50 PM
দেশে এক হাজারেরও বেশি পর্যটন স্থান রয়েছে। তবে বেশির ভাগ মানুষের কাছে ভ্রমণ মানেই বড় খরচ।
ট্রেন বা বাসের ভাড়া, হোটেল, খাওয়া-দাওয়া, গাড়ি ভাড়া— সব মিলিয়ে খরচের বোঝাটা অনেক।
তবে সঠিক পরিকল্পনা, স্থানীয় সুবিধা ও ছোট ছোট কৌশল মেনে চললে এই খরচ অনেক কমিয়ে আনা যায়।
সেন্টমার্টিন ট্যুরিজমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আহম্মেদ হাসান ইস্পাহানি, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রতিবেদনের উদাহারণ দিয়ে জানান- ভ্রমণকারীরা সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেন পরিবহনে (৩৬ শতাংশের বেশি)। তারপর আসে থাকা, খাওয়া ও কেনাকাটার খরচ।
তার কথায় “ভ্রমণে খরচ কমাতে হলে আগে থেকে পরিকল্পনা করতে হবে। স্থানীয় ট্যুর অপারেটর, পরিচিত বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ থেকে তথ্য নিলে অনেক সস্তায় ঘুরে আসা যায়।”
প্রথমত
দরকার সঠিক পরিকল্পনা। যাওয়ার আগে গন্তব্যের খরচের হিসাব করুন।
যেমন- টাঙ্গুয়ার হাওর যাওয়ার কথা ভাবুন। সিলেট থেকে তাহিরপুর পর্যন্ত বাসে যাওয়া, তারপর নৌকায় হাওরে যাওয়া— এসবের খরচ জানতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভ্রমণ গ্রুপে পোস্ট করুন বা আগে যারা গেছেন তাদের সঙ্গে কথা বলুন।
অনেকে লিখে রাখেন— কোন নৌকাওয়ালার সঙ্গে কথা বললে ভাড়া কম হয়, কোন রুটে গেলে সময় ও টাকা বাঁচে। এভাবে আগে থেকে খোঁজ নিলে খরচ অনেক কমে আসে।
দ্বিতীয়ত
পরিবহন খরচ কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হল- ট্রেন বা নন-এসি বাস ব্যবহার করা।
ঢাকা থেকে সিলেট যেতে এসি বাসে ৮শ থেকে ১২শ’ টাকা লাগে। তবে নন-এসিতে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় যাওয়া যায়।
রাতের বাস বা ট্রেনে গেলে হোটেল ভাড়াও বাঁচে। দলগতভাবে গেলে চান্দের গাড়ি, নৌকা বা লেগুনার ভাড়া ভাগ করে নেওয়া যায়।

তৃতীয়ত
থাকার খরচ কমানোর জন্য হোস্টেল, ডরমিটরি, গেস্টহাউস বা হোমস্টে বেছে নিন। কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা সেন্টমার্টিনে অফ-সিজনে (অক্টোবর-নভেম্বর বা ফেব্রুয়ারি-মার্চ) গেলে হোটেল ভাড়া অর্ধেক হয়ে যায়।
রাঙামাটি বা সুন্দরবনে স্থানীয়দের বাসায় বা ট্রলারে থাকার ব্যবস্থা করলে খরচ আরও কমে। আগে থেকে বুকিং দিলে অনেক জায়গায় বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়।
চতুর্থত
খাবার খরচ কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায়— স্থানীয় খাবার খাওয়া। স্থানীয় রেস্তোরাঁ বা রাস্তার ধারের হোটেলে ১শ’ থেকে দেড়শ টাকায় ভাত, মুরগি, সবজি ও ডাল খাওয়া যায়।
প্রস্তুত খাবার বা হিমায়িত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। অনেক জায়গায় ভ্রমণে শুকনা খাবার (বিস্কুট, ফল) নিয়ে যাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে সস্তা ও সুস্বাদু খাবারের খোঁজ নিন।
ঢাকার পুরানা পল্টনের বাসিন্দা শিক্ষার্থী সাফওয়ান বিন এ হক বলেন, “আমরা দলগতভাবে ভ্রমণ করি। এতে খরচ অনেক কম হয়। বান্দরবানে চান্দের গাড়ি ১০-১২ জন হলে জনপ্রতি ভাড়া অনেক কম পড়ে। অনেক সময় অন্য দলের সঙ্গে ভাগ করে নৌকা বা গাড়ি নিলে খরচ আরও কমে। স্থানীয় বন্ধুদের বাসায় থাকলে খাবার ও থাকার খরচও বাঁচে।”
কম খরচে যাওয়ার সেরা কয়েকটি জায়গা— কুয়াকাটা, লালাখাল, কলমাকান্দা, সীতাকুণ্ড, টাঙ্গুয়ার হাওর, জাফলং, রাতারগুল, বিছনাকান্দি। এসব জায়গায় নন-এসি বাস বা ট্রেনে যাওয়া যায়।
দলগতভাবে গেলে নৌকা বা লেগুনার ভাড়া ভাগ হয়ে যায়। অফ-সিজনে গেলে হোটেল ভাড়া অর্ধেক হয়।
কম খরচে ঘোরাঘুরি করতে চাইলে আগে থেকে পরিকল্পনা করুন। স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, দলগতভাবে যান, অফ-সিজনে ভ্রমণ করুন।
এতে টাকা বাঁচিয়ে দেশের সুন্দর সব জায়গা ঘুরে আসা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন
ঈদের ছুটিতে রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদের কোলে রিসোর্টে