Published : 27 Jul 2025, 06:05 PM
ঘর পরিষ্কার রাখার চেয়ে সেটিকে দীর্ঘমেয়াদে পরিচ্ছন্ন রাখা অনেক বেশি কঠিন কাজ। আর এই সমস্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হতে পারে কাপড়ের আলমারি।
প্রতিদিনকার ব্যবহারে কাপড় বের করা, ঝুলিয়ে রাখা, ভাঁজ করা- সব কিছুই যেন একসময় বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।
তবে চাইলে মাত্র ১৫ মিনিটের একটি মাত্র সাপ্তাহিক রুটিনের মাধ্যমেই আলমারির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়।
এমনটাই বলছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘সোর্টেড অ্যান্ড স্টাইল্ড’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং পেশাদার সংগঠক হিলারি ফোর্স্ট এবং জেমি অ্যান্ড্রিয়ু।
‘সোর্ট ইট আউট সানডে’ রুটিন
হিলারি ফোর্স্ট এবং জেমি অ্যান্ড্রিয়ু প্রতি সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ১৫ মিনিট সময় নিয়ে যেটি করেন, তা হল ‘সোর্ট ইট আউট সানডে’।
এই রুটিন অনুসরণ করে তারা নিজেদের আলমারি যেমন পরিষ্কার রাখেন তেমনি এটি শেখান তাদের প্রতিটি গ্রাহককেও।
এই রুটিনে তারা যা করেন তা হল—
হিলারি ফোর্স্ট রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “আলমারি পরিচর্যা নিখুঁতভাবে করার বিষয় নয়, বরং এটিকে প্রতিদিন অল্প করে যত্ন দেওয়ার বিষয়। প্রতিদিন একটু, সপ্তাহে একটু বেশি, এই ছোট ছোট মনোযোগই বছরের শেষ নাগাদ বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে।”
সময় কম? ছোট করে শুরু
যারা খুব ব্যস্ত, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘সেন্ট লুইস ক্লোজেট কো.’-এর সহ-সভাপতি অ্যাঞ্জেলা ইয়র্ক বলেন, “মাত্র পাঁচ মিনিট সময় পেলেও প্রতি সপ্তাহে আলমারির একটা অংশ দ্রুত গুছিয়ে নেওয়ার কাজ অনেক উপকারে আসে।”
এই ছোট রুটিনে অ্যাঞ্জেলা যা করেন—
জেমি অ্যান্ড্রিয়ু বলেন, “যদি আলমারির প্রাথমিক গঠন সঠিক না হয়, তাহলে সেটি কখনই দীর্ঘমেয়াদে গুছিয়ে রাখতে পারবেন না।”
এই ‘পূর্ণাঙ্গ রিসেট’-এর অর্থ হল—
অ্যাঞ্জেলা ইয়র্ক আরও বলেন, “ভাঁজ করে রাখা পোশাকের জন্য আলাদা ভাগ করে রাখা ড্রয়ার বা মখমলি আবরণযুক্ত অংশ রাখা ভালো, যেমন- অন্তর্বাস, টি-শার্ট, জিনস ইত্যাদির জন্য।”
বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলিয়ে সাজান আলমারি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা তারকাদের বা নিখুঁতভাবে সাজানো আলমারির মতো ব্যবস্থা অনেক সময় নিজের জন্য বাস্তবসম্মত নয়।
হিলারি ফোর্স্ট বলেন, “নিজের জীবনযাপন যেমন আলমারিও তেমন হওয়া উচিত। টি-শার্টগুলো একসঙ্গে, প্যান্টগুলো একসঙ্গে, ড্রেসগুলো একসঙ্গে রাখুন।”
আলমারিতে রাখুন একটি ঝুড়ি
জেমি অ্যান্ড্রিয়ু পরামর্শ দেন, “আলমারিতে এমন একটি জায়গা রাখুন যেখানে মেরামতের প্রয়োজনীয়, ড্রাই ক্লিনিং বা দানের উপযুক্ত পোশাক রাখতে পারেন।”
যদি ফ্লোর স্পেস কম হয়, তাহলে একটি ক্যানভাস ব্যাগ হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা যেতে পারে। এ জন্য বাড়িতে থাকা অতিরিক্ত বাজারের ব্যাগগুলোও ব্যবহার করতে পারেন।
কাপড় পরে সঙ্গে সঙ্গে জায়গায় ফেরত
অ্যাঞ্জেলা ইয়র্ক বলেন, “এই অভ্যাসটা হয়ত প্রথমে জটিল মনে হতে পারে, তবে যখন বারবার এটা করবেন, তখন এটি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হবে।”
তিনি পরামর্শ দেন—
কাপড় পরিবর্তনের পর আগের কাপড়টি সঙ্গে সঙ্গেই যথাস্থানে রেখে দেওয়া। জুতা জোড়া মিলিয়ে রাখা, ড্রেসের জিপার তুলে দেওয়া, শার্টের বোতাম লাগানো, এক্সেসরিগুলো বাক্সে রাখা।
আলমারিতে রাখবেন শুধু পরিষ্কার কাপড়
অ্যাঞ্জেলা বলেন, “বরাবরই খেয়াল রাখি যেন আলমারিতে শুধু পরিষ্কার কাপড় থাকে। ময়লা কাপড় সরাসরি আলাদা ঝুড়িতে দিই।”
কাস্টম ক্লোজেট সিস্টেম
যদি এত কিছুর পরেও আলমারি গুছিয়ে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে আলমারির কাঠামোতে পরিবর্তন আনার কথাও ভাবতে হবে।
অ্যাঞ্জেলা ইয়র্ক বলেন, “যদি কাস্টম ক্লোজেট সিস্টেম সঠিকভাবে বানানো হয়, তাহলে আলমারি গুছিয়ে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়। তবে নিখুঁত না হলেও চলবে, ধারাবাহিকতা থাকাটাই মূল কথা।”
যাদের বাজেট কম, তাদের জন্য কিছু বিকল্প পরামর্শ
এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত একটি বার বা তাক যুক্ত করা। একটি নতুন জুতা রাখার তাক করা বা একই ধরনের কিছু হ্যাঙ্গার ব্যবহার করা।
আরও পড়ুন
কাপড় বেশি হয়ে গেলে যেভাবে গুছিয়ে রাখবেন
প্রতিদিনের কাপড় পরিষ্কার ও যত্নের বিশেষ কৌশল