Published : 06 Oct 2025, 06:23 PM
প্রয়াত গায়ক জুবিন গার্গকে ‘বিষপ্রয়োগে’ হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে।
মৃত্যুর ঘটনায় আটক হওয়া ব্যান্ডসঙ্গী ও ড্রামার শেখর জ্যোতি গোস্বামী পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা এবং ইভেন্ট ম্যানেজার শ্যামকানু মহন্তের বিরুদ্ধে এই হত্যা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
এনডিটিভি লিখেছে, ‘বিষপ্রয়োগের’ এই অভিযোগ নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। আসাম সরকার বলছে, গায়কের ময়নাতদন্তের সময় যে ভিসেরার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তা দিল্লির সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট আগামী ১০ অক্টোবর মিলবে।
সেই রিপোর্ট হাতে এলে বোঝা যাবে, জুবিনকে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল, নাকি গ্রেপ্তার হওয়া শেখর নিজেকে বাঁচাতে অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।
আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “গুয়াহাটি হাই কোর্ট জুবিনের মৃত্যু তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিশনও গঠন করেছে। বিচারিক কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।”

গত সপ্তাহে সিআইডি গ্রেপ্তার করে জুবিনের সহশিল্পী শেখর জ্যোতি গোস্বামীকে। তিনি দাবি করেন, নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত ও জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা সিঙ্গাপুরে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তার পানীয়তে বিষ মেশানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বলেন, “সে নিজেই মামলার আসামি। নিজেকে বাঁচাতে অন্যের ওপর দোষ চাপাতে পারে। তবে আমরা বিষক্রিয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছি। ১১ অক্টোবরের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
“জুবিন আমার ছোট ভাইয়ের মত ছিল। তার স্ত্রী গরিমা আমার কলেজের জুনিয়র। পরিবারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেছি। আমি সেখানে গিয়েছিলাম আত্মীয়ের মত, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়।”
বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ নিয়ে তিনি বলেছেন, আসাম পুলিশের পক্ষে তাদের সরাসরি জেরা করা সম্ভব নয়। তবে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে সহযোগিতা নেওয়া হবে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে যোগ দিতে গিয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫২ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ।
জুবিন গার্গ যখন সাঁতারে নেমেছিলেন ওই সময় একই ইয়টে ছিলেন শেখর গোস্বামী। তাই গোস্বামীকে আটক করা হয়। সিঙ্গাপুরে করা প্রথম ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়ার কথা বলা হয়।
পরে ২৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়।
তিন দশকের বেশি সময়ের সংগীত জীবনে জুবিন গার্গ গেয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার গান, ৪০টি ভাষা ও উপভাষায়।
শুধু আসামে নয়, গান দিয়ে তিনি ভারতীয় সংগীতজগতে এক অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন।
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাউত অভিনীত গ্যাংস্টার সিনেমায় ‘ইয়া আলী’ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান এ শিল্পী। এরপর ‘কৃশ থ্রি’ সিমেনার ‘দিল তু হি বাতা’ এর মত বেশ কয়েকটি হিট গানে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালকের ভূমিকাতেও ছিলেন জুবিন। এর মধ্যে সুপার হিট হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, মিশন চায়না, দীনবন্ধু ও মন জয়।
কলকাতার বাংলা সিনেমার বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে এই শিল্পীর কণ্ঠে। সংগীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি গেয়ছেন ‘মন মানে না’, ‘পিয়া রে’, 'যে দেশে', 'খোদা জানে', 'প্রেম কী বুঝিনি', 'চোখের জলে', 'বোঝে না সে বোঝে না', 'আয়না মন ভাঙা আয়না'সহ বহু গান।
আরও পড়ুন
জুবিন গার্গের মৃত্যু তদন্তে আটক ব্যান্ডসঙ্গী শেখর গোস্বামী
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুবিন গার্গের শেষকৃত্য