Published : 21 Sep 2025, 09:49 PM
শেষবারের মত আসামে ফিরলেন শিল্পী জুবিন গার্গ। শোকে স্তব্ধ পুরো শহরের মানুষ যেন নেমে এল পথে। শিল্পীর কফিন নিয়ে ফুলে সাজানো অ্যাম্বুলেন্সটি সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় পৌঁছায় কাহিলিপাড়ার বাড়িতে।
এনডিটিভি লিখেছে, রোববার সিঙ্গাপুর থেকে জুবিন গার্গের মরদেহ পৌঁছায় গুয়াহাটি লোকপ্রিয় গোপীনাথ বরদলই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। স্ত্রী গরিমা গার্গ এবং আসাম সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন। প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মত দেখতে বিমানবন্দরে জড়ো হন হাজারো মানুষ।
বিমানবন্দর থেকে কাহিলিপাড়া পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার পথে মানুষ ফুল ছিটিয়ে, হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে আর কান্নায় ভেঙে পড়ে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তাদের প্রিয় শিল্পীকে।
শোভাযাত্রায় ছিল জুবিনের প্রিয় ছাদখোলা গাড়িটিও, সঙ্গে ছিলেন তার ব্যান্ড সদস্যরা। সেসময় ভক্তরা গেয়ে ওঠেন তার গান, স্লোগান দেন “জয় জুবিন দা।”
অনেকের হাতে ছিল জুবিনের প্রতিকৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী অহমীয়া ‘গামছা’, যেখানে ‘জে জি (জুবিন গার্গ) ফরএভার’ লেখা ছিল।

এই শোক শুধু পথেই সীমাবদ্ধ ছিল না, শহরের প্রতিটি দোকানের সামনে জ্বালানো ছিল ধূপ। ছোট ছোট বুথ বসিয়ে মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। প্রতিটি ছাদ, বারান্দা, এমনকি রাস্তার ডিভাইডারেও মানুষ অপেক্ষা করছিলেন শিল্পীর শেষ যাত্রা দেখার জন্য।
গুয়াহাটির স্থানীয় শিল্পী রূপম মুদোই বলেন, “শহর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতাতেই যেন জুবিন দার প্রতি মানুষের ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। এমন ভালোবাসা আগে দেখিনি।”
কাহিলিপাড়ায় পৌঁছে সেনা ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় গায়কের মরদেহ প্রথমে নেওয়া হয় তার বাড়িতে। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা রাখা হয়।
এরপর সকলের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অর্জুন ভোগেশ্বর বরুয়া ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সামনে রাখা হয় কফিন।

শুক্রবার সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান এই শিল্পী।
‘নর্থ ইস্ট ইনডিয়া ফেস্টিভালে’ অংশ নিতে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন তিনি। শনি ও রোববার সেখানে গান গাওয়ার কথা ছিল তার।
কিন্তু আগের দিন সাগরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় পড়েন জুবিন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ‘সিপিআর’ দেওয়া হয়। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি।
জুবিন গার্গের শেষকৃত্যের বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। আসাম মন্ত্রিসভা তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার স্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জুবিন গার্গের প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে আসাম সরকার। ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যে শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের সংগীত জীবনে জুবিন গার্গ গেয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার গান, ৪০টি ভাষা ও উপভাষায়। শুধু আসামে নয়, গান দিয়ে তিনি ভারতীয় সংগীতজগতে এক অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন।
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাউত অভিনীত গ্যাংস্টার সিনেমায় ‘ইয়া আলী’ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান এ শিল্পী। এরপর ‘কৃশ থ্রি’ সিমেনার ‘দিল তু হি বাতা’ এর মত বেশ কয়েকটি হিট গানে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালকের ভূমিকাতেও ছিলেন জুবিন। এর মধ্যে সুপার হিট হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, মিশন চায়না, দীনবন্ধু ও মন জয়।
কলকাতার বাংলা সিনেমার বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে এই শিল্পীর কণ্ঠে। সংগীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে এই শিল্পী গেয়ছেন ‘মন মানে না’, ‘পিয়া রে’, 'যে দেশে', 'খোদা জানে', 'প্রেম কী বুঝিনি', 'চোখের জলে', 'বোঝে না সে বোঝে না', 'আয়না মন ভাঙা আয়না'সহ বহু গান।
আরও পড়ুন:
'ইয়া আলী' গানের শিল্পী জুবিন গার্গ আর নেই