Published : 19 Sep 2025, 06:27 PM
বলিউডের ‘গ্যাংস্টার’ সিনেমার জনপ্রিয় ‘ইয়া আলী’ গানের শিল্পী জুবিন গার্গ মারা গেছেন।
শুক্রবার সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় অপ্রত্যাশিত এক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
সিঙ্গাপুরে ‘নর্থ ইস্ট ইনডিয়া ফেস্টিভ্যালে’ অংশ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। শনি ও রোববার সেখানে গান গাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু এর আগের দিন সাগরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় পড়েন জুবিন।
সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ‘সিপিআর’ দেওয়া হয়। এরপর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিলেও বাঁচানো যায়নি। বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টায় তার মৃত্যু হয়েছে।
‘নর্থ ইস্ট ইনডিয়া ফেস্টিভ্যাল’ কর্তৃপক্ষের একজন মুখপাত্র অনুজ কুমার বড়ুয়া এনডিটিভিকে বলেন, স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় শ্বাস নিতে পারছিলেন না জুবিন। এরপর তাকে সাগর থেকে তুলে তাৎক্ষণিক সিপিআর দিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
আসামের এ শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

ভারতীয় সিনেমা ও সঙ্গীতের জগতে নিজের কাজের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন জুবিন। অহমিয়া, বাংলা ও হিন্দি ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি।
২০২২ সালে আসামের দিব্রুগড়ে একবার পড়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলেন। তখন তিনি মাথায় আঘাত পান। সেবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে গুয়াহাটির একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাউত অভিনীত গ্যাংস্টার সিনেমায় ‘ইয়া আলী’ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান এ শিল্পী। এরপর ‘কৃশ থ্রি’ সিমেনার ‘দিল তু হি বাতা’ এর মত বেশ কয়েকটি হিট গানে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।
সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালকের ভূমিকায়ও ছিলেন তিনি। এর মধ্যে সুপার হিট হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, মিশন চায়না, দীনবন্ধু ও মন জয়।
‘চলে যাওয়ার মত সময় হয়নি’
সবশেষ মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে সিঙ্গাপুরে তার অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন। এর তিন দিন পরই এমন মৃত্যুতে শোকাহত আসাম সরকার, চলচ্চিত্র ও সঙ্গীতাঙ্গন।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শোক প্রকাশ করে বলেছেন, “খুব তাড়াতাড়ি চলে গেছেন তিনি, এটা তো যাওয়ার বয়স নয়।”
মন্ত্রী বলেন, “আসাম তার প্রিয় সন্তানদের একজনকে হারিয়েছে। আসামের জন্য জুবিন কী ছিলেন, সেটা বোঝানোর মত ভাষা আমার নেই। তার কণ্ঠে মানুষকে উজ্জীবিত করার এক অতুলনীয় ক্ষমতা ছিল। তার গান সরাসরি আমাদের মন ও আত্মার কথা বলত।
“এমন এক শূন্যতা তিনি রেখে গেলেন, যা কখনো পূরণ হবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাকে আসামের সংস্কৃতির একজন বিশ্বস্ত ধারক হিসেবে স্মরণ করবে। তার কাজ আগামী দিনের অনেক প্রতিভাবান শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করবে।”
জুবিনের মৃত্যুতে আসামের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও শোক প্রকাশ করে এক্সে তার সম্পর্কে লিখেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী অশোক সিংহল বলেন, “আসাম তার প্রিয় সন্তানকে হারিয়েছে। তার অকাল প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আসাম কেবল একটি কণ্ঠ হারায়নি, হারিয়েছে একটি হৃদস্পন্দন।”