আমিরের তৃতীয় বিয়ের সানাইয়ের সুর, থাকবেন ছেলেমেয়েরাও
মধ্যাহ্নভোজে কী কী পদ থাকবে, তার সবকিছুই আমির ও গৌরী মিলেই ঠিক করেছেন।
বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ খ্যাত অভিনেতা আমির খানের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে আর দেরি নেই। প্রেমিকা গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে রোববার বিয়ের বন্ধনে বাঁধা পড়তে চলেছেন তিনি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, একেবারেই ঘরোয়া আয়োজনে এবং ব্যক্তিগত পরিসরে বিয়ের আয়োজন হতে চলেছে।
বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ থেকে ১৫০ জন অতিথি থাকবেন। তাদের মধ্যে দুই পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর, রাজকুমার হিরানিসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অল্প কয়েকজন সহকর্মীরা থাকবেন। আমির এবং গৌরী দুজনেরই আগের সংসারের সন্তানরাও বিয়েতে উপস্থিত থাকবে।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর অতিথিদের জন্য থাকবে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজ।
অতিথির তালিকা থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নভোজে কী কী পদ থাকবে, তার সবকিছুই আমির ও গৌরী মিলেই ঠিক করেছেন।
মুম্বাইয়ে বৃহস্পতিবার সিনেমা ‘প্রীতম অ্যান্ড পেড্রো’–এর বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমির নিজেই তার বিয়ের খবর নিশ্চিত করেন।
আমির বলেন, “আগামী ৫ জুলাই আমরা বিয়ে করছি। খুবই ছোট একটি পারিবারিক আয়োজন। দুই পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই বাসায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করছি আমরা। আমরা সবার আশীর্বাদ পেতে চাই।”
গৌরীর সঙ্গে ৬১ বছর বয়সি আমিরের প্রেমের খবর সামনে আসে গেল বছর তার জন্মদিনে। আর এবার জুন মাসের শুরুতে তিনি জানিয়েছেন, ৫ জুলাই গৌরীকে বিয়ে করছেন তিনি।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক অনুষ্ঠানে গত বছর আমির বলেছিলেন, জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশা তিনি প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। জীবনসঙ্গী হতে পারে এমন কাউকে আর খুঁজে পাবেন না বলেই তার কাছে মনে হচ্ছিল। কাউকে পাবেন সেই আশাই তিনি করেননি।
এরপর গৌরী সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “সে (গৌরী স্প্র্যাট) জীবনে অনেক প্রশান্তি আর স্থিরতা নিয়ে এসেছে। আসলেই সে অসাধারণ মানুষ। নিজেকে সত্যিই অনেক ভাগ্যবান মনে করি যে তার সঙ্গে দেখা হয়েছে।
“আগের বিয়েগুলো হয়ত টেকেনি, কিন্তু আমাদের জীবন তো থেমে থাকেনি। আমি এখনো সুখী যে রীনা, কিরণ আর এখন গৌরীর মতো মানুষের আগমন ঘটেছে জীবনে। এ তিনজন আমার গড়ে ওঠার পেছনে খুব বড় অবদান রেখেছে। আমি তাদের অত্যন্ত সম্মান করি।”
ছোটবেলার সঙ্গী রীনা দত্তকে ১৯৮৬ সালে ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ে করেছিলেন আমির খান। তাদের দুই সন্তান জুনায়েদ খান ও ইরা খান। জুনায়েদ ইতোমধ্যে চলচ্চিত্র জগতে কাজ করছেন। আর ইরা কাজ করছেন মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে।
১৬ বছর সংসারের পর ২০০২ সালে রীনার সঙ্গে আমিরের বিচ্ছেদ হয়।
এরপর ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেন আমির। ২০০১ সালে ‘লগান’ চলচ্চিত্রের শুটিং সেটে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। কিরণ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করছিলেন।
আমির খানের দ্বিতীয় সংসার জীবনও টেকে ১৬ বছর। ২০২১ সালে কিরণের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়। যদিও তারা যৌথভাবে ছেলে আজাদ খানের দেখভাল করছেন।
