১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জুবিন গার্গের মৃত্যু তদন্তে আটক ব্যান্ডসঙ্গী শেখর গোস্বামী

শেখর গোস্বামী দীর্ঘদিন ধরেই জুবিন গার্গের ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন।

জুবিন গার্গের মৃত্যু তদন্তে আটক ব্যান্ডসঙ্গী শেখর গোস্বামী
শিল্পী জুবিন গার্গ ও ড্রামার শেখর জ্যোতি গোস্বামী

গ্লিটজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Sep 2025, 07:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:22 PM

প্রয়াত গায়ক জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে তার দীর্ঘদিনের ব্যান্ডসঙ্গী ও ড্রামার শেখর জ্যোতি গোস্বামীকে আটক করেছে আসাম পুলিশ।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালে যোগ দিতে গিয়ে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৫২ বছর বয়সী সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ।

এনডিটিভি লিখেছে, জুবিন গার্গ যখন সাঁতারে নেমেছিলেন ওই সময় একই ইয়টে ছিলেন শেখর গোস্বামী। আসাম পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) বৃহস্পতিবার তাকে হেফাজতে নেয়। একই দিনে ফেস্টিভাল আয়োজক শ্যামকানু মহান্তা ও জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।  

শেখর গোস্বামী দীর্ঘদিন ধরেই জুবিন গার্গের ব্যান্ডের সদস্য ছিলেন। 

জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনার বর্নণা দিয়ে শেখর গোস্বামী স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, সাঁতার কাটতে নামার কিছুক্ষণ পরই জুবিনকে পানিতে উল্টো ভেসে থাকতে দেখা যায়। তিনি এগিয়ে গিয়ে গায়কের শরীর ঘোরালে দেখেন মুখ ও নাক দিয়ে সাদা তরল বের হচ্ছিল। এরপর তিনি মাথা ধরে সাহায্যের জন্য ডাকেন।

জুবিন গার্গের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে আসাম সরকার সিআইডির বিশেষ ডিআইজি মুন্না প্রসাদ গুপ্তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি এসআইটি গঠন করেছে।

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, প্রয়োজনে সিবিআই তদন্তেরও সুপারিশ করা হবে। 

"সিঙ্গাপুরে যারা জুবিন গার্গের সঙ্গে ছিলেন আসাম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও নর্থইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভালের আয়োজকরা, সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।" 

সিঙ্গাপুরে করা প্রথম ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডুবে যাওয়ার কথা বলা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গত মঙ্গলবার আসামের সোনাপুরে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় জুবিন গার্গের।

তিন দশকের বেশি সময়ের সংগীত জীবনে জুবিন গার্গ গেয়েছেন প্রায় ৩৮ হাজার গান, ৪০টি ভাষা ও উপভাষায়।

শুধু আসামে নয়, গান দিয়ে তিনি ভারতীয় সংগীতজগতে এক অনন্য স্থান তৈরি করেছিলেন।

২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ইমরান হাশমি ও কঙ্গনা রানাউত অভিনীত গ্যাংস্টার সিনেমায় ‘ইয়া আলী’ গানের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান এ শিল্পী। এরপর ‘কৃশ থ্রি’ সিমেনার ‘দিল তু হি বাতা’ এর মত বেশ কয়েকটি হিট গানে খ্যাতি পেয়েছেন তিনি।

সিনেমায় অভিনয় ও পরিচালকের ভূমিকাতেও ছিলেন জুবিন। এর মধ্যে সুপার হিট হয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, মিশন চায়না, দীনবন্ধু ও মন জয়।

কলকাতার বাংলা সিনেমার বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে এই শিল্পীর কণ্ঠে। সংগীত পরিচালক জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি গেয়ছেন ‘মন মানে না’, ‘পিয়া রে’, 'যে দেশে', 'খোদা জানে', 'প্রেম কী বুঝিনি', 'চোখের জলে', 'বোঝে না সে বোঝে না', 'আয়না মন ভাঙা আয়না'সহ বহু গান।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জুবিন গার্গের শেষকৃত্য

জুবিন গার্গকে শেষ শ্রদ্ধা, গোটা শহরে স্তব্ধতা

'ইয়া আলী' গানের শিল্পী জুবিন গার্গ আর নেই