Published : 04 Mar 2026, 06:58 PM
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গলা কেটে আট বছরের শিশু ইরা মনি হত্যাকাণ্ডে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন জড়িত বাবু শেখ।
বুধবার আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে আইনজীবী তিনি বলেন, বাবু শেখ তার দোষ স্বীকার করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরীন হীমার আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রোববার শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় জান্নাতুল নেসা ওরফে ইরা মনি নামে আট বছরের এক শিশুকে উদ্ধার করেন মাটি কাটার শ্রমিকরা। শিশুটি মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
মারা যাওয়া ইরা মনির বাড়ি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।
এদিকে ইরার মৃত্যুর পর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে উপজেলার কুমিরা এলাকা থেকে বাবু শেখকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়।
বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়ায়। তিনি সীতাকুণ্ডে নিহত ইরা মনির পরিবারের পাশের ঘরে বসবাস করতেন।
সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সীতাকুণ্ড থানায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। এর অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’, পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত রোববার সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দিয়ে বেড়াতে যাওবার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন বাবু শেখ। সেখান থেকে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে যান। সেখানে হেঁটে তারা বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পাহাড়ে যান।
আরো পড়ুন
সীতাকুণ্ডে পাহাড়ি এলাকায় শ্বাসনালী কাটা সেই মেয়েটির মৃত্যু