Published : 07 Jul 2026, 08:25 PM
রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ার পর ১০১ সদস্যের ‘র্যাপিড রেসপন্স টিম’ গঠন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিনকে কমিটির আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি গোলাম বাকি মাসুদকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনে এক জরুরি সভায় দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ‘র্যাপিড রেসপন্স’ টিম গঠনের ঘোষণা দেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এ সময় রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে যে কোনো জরুরি সহযোগিতার জন্য ০১৮০৫-৭৮৩৩৮৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়।
টানা বর্ষণের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপনকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন মেয়র।
চট্টগ্রাম নগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যা ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ১৯৮৩ সালের ৪ অগাস্ট চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছিল।
অতি ভারি বর্ষণের কারণে সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গত এলাকার সংখ্যা বাড়তে থাকে। রেলপথ ডুবে আটকা পড়ে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন।
জলাবদ্ধতায় জনভোগান্তি কমাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, কাতালগঞ্জ, টাইগারপাস, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধতাপ্রবণ ও পাহাড় ঘেষা এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে যান।
এ সময় মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, “চট্টগ্রামে মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে যাতে নগরবাসী দীর্ঘসময় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি।

“বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, মির্জাপুর, বৃহত্তর বাকলিয়া, কোতোয়ালী, দেওয়ানহাট, লালখান বাজার, আকবর শাহ, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় এবার উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা দেখা যায়নি, যা চলমান উন্নয়নকাজের ইতিবাচক ফলাফল।”
দুপুরে নগর ভবনে জরুরি সভায় বসেন মেয়র। সেখানে দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিতে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট ‘র্যাপিড রেসপন্স’ টিম গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
সবশেষ বিকেল সাড়ে ৫টায় সাগরে ভাটা শুরু হওয়ার পর নগরীর কিছু এলাকা থেকে পানি নামার খবর পাওয়া গেছে।
নগরীর ৩৬টি খাল নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এই প্রকল্পের পূর্ত কাজ পরিচালনা করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।
মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর রাজাখালি আর্মি ক্যাম্পে ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক’ প্রকল্প বিষয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, “আজ যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। গত ৫ জুলাই থেকে আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার। এরআগে ১৯৮৩ সালে সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। প্রকল্পে যে ড্রেনেজ ডিজাইন তাতে ৫০০-৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও কিছু হবে না বলে প্রত্যাশা ছিল।
“কিন্তু যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। ফলে প্রবর্তকে পানি নাই, কিন্তু একই হিজরা খালের পাড়ে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলাসহ দুই একটি জায়গায় দুই থেকে আড়াই ফুট পানি উঠেছে। যে অবকাঠামো আছে, তাতে আমরা কনফিডেন্ট বৃষ্টি থামলে পানি নেমে যাবে এক থেকে দুই ঘণ্টায়।”
চলমান বর্ষা মৌসুমের জন্য জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৬টি ‘কুইক রিঅ্যাকশন’ টিম গঠন করেছেন তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “প্রতি টিমে একজন করে প্রকৌশলীসহ ৬ জন করে কাজ করছে। তাদের সঙ্গে ৮-১০ জন করে শ্রমিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে। যেখানে সমস্যা হচ্ছে, সেখানেই তারা ছুটে যাচ্ছে। অনেক সময় ভাসমান ময়লার কারণে রাস্তার পানি নামতে পারে না। সে সমস্যা এবার হবে না।
“চট্টগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, জলাবদ্ধতার সমস্যা এ বছর ৮০-৯০ শতাংশ কমে যাবে। ফেব্রুয়ারি নাগাদ কাজ শেষ হলে ৩৬টি খালের আশেপাশে আর জলাবদ্ধতা হবে না।”
আরও পড়ুন-
চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি, তলিয়েছে বহু এলাকা