Published : 07 Jul 2026, 08:31 PM
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির পরিপন্থি কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি বলেছেন, “জনমতের বিরুদ্ধে গিয়ে এনসিটি–সিসিটি ইজারা দেওয়ার ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত, তারা যেন অতীতের রাজনৈতিক পরিণতি থেকে শিক্ষা নেয়। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।”
মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর স্টেশন রোডে মোটেল সৈকতের ‘হালদা’ হলে এক গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলেন এ সিপিবি নেতা।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির এ বৈঠকে তিনি বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার অন্যতম ধারক-বাহক লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দরকে নানাভাবে অলাভজনক হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্দর চেয়ারম্যান ও বিডার চেয়ারম্যান দেশের স্বার্থবিরোধী অবস্থানে আছেন, তারা বন্দর নিয়ে যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করছেন সবই ভুল ও মিথ্যা।
“আমাদের সবার মনে আছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব ঔদ্ধত্যপূর্ণভাবে বলেছিলেন, যারা এর বিরোধিতা করবে তাদের প্রতিরোধ করা হবে। ওই সময়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে পদযাত্রা করেছিলাম। পথে লক্ষ মানুষ এটার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন জানিয়েছেন। তাহলে এটাই তো দেশের মানুষের কথা। আজ এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, তাদের আসলে লক্ষ্য ছিল দেশের স্বার্থের বাইরে সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যবাদী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা একটা স্লোগান দিয়েছেন ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। বন্দর নিয়ে এখন যে পথে আছেন, এটা কি সবার উপরে বাংলাদেশ? না কি বিদেশি আধিপত্যবাদী সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করছেন?
“আশা করব সরকার এই কাজটি করবে না। আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব বিরোধী অবস্থানে কাউকে যেতে দেব না।”
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, সিপিবির সাবেক সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলম, নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী সুভাষ বড়ুয়া, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রামের সভাপতি তপন দত্ত, ইঞ্জিনির্য়াস ইনস্টিটিউশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সম্পাদক প্রকৌশলী শহীদুল আলম, শ্রমিকদলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ নুরুল্লাহ বাহার, কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, সাংবাদিক জসিম চৌধুরী সবুজ, বাংলাদেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।